প্রাইমা হোসাইন
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন এবং মুহাম্মদ ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ। বাংলার মাটিতে এদের অপকর্ম অন্যায় অবিচার জুলুম নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে আওয়ামী লীগও। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং পুলিশ নিহতদের পরিবার যেন তাদের আইনি পদক্ষেপ, বাংলাদেশ জুড়ে গণসন্ত্রাসের ফলে যে হত্যালীলা চলেছে তা নিয়ে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে তদন্ত হওয়া উচিত। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার না হলে বাংলাদেশ এর অভ্যন্তরীন আইনশৃঙ্খলার উন্নতি সম্ভব নয়।
দেশের দুর্নীতি, অপশাসন, মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি, লুণ্ঠন, এবং দেশের সম্পদ বিদেশীদের হাতে বিক্রি করে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আইনের শাসন চাইছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। সেইসঙ্গে সব দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করা, দেশের মানুষের নৈতিক সিদ্ধান্ত ও দাবির প্রতি নতুন সরকারের দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাজ বন্ধ করা হয়েছে। যার জন্য গত নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকতে হয়েছে বাংলাদেশের এই বৃহৎ দলকে। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফ্রিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়া উচিত নতুন সরকারের।
‘অবৈধ’ উপদেষ্টাদের এবং তাদের সহযোগী ও সমর্থনকারীদের উপযুক্ত বিচার করার জন্য সমর্থনে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ আলোচনার কথা বলছেন। আওয়ামী লিগ জানিয়েছে, , “আমরা এই অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো। আমরা চাই, যারা এই অপরাধ করেছে, তারা উপযুক্ত শাস্তি পায়।” বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক তারা নিজেরাই টকশোর সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছে তারা পুলিশকে হত্যা করেছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে। ধানমন্ডি ঐতিহাসিক ৩২ নাম্বার মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে উগ্রবাদী সংগঠন। তারা প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে হাসিনার দল।
যে শত শত কোটি টাকার লুটপাট হয়েছে, অবৈধভাবে শেয়ারবাজার লুটপাট করেছ, তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি তুলেছে আওয়ামী লীগ। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়েছে অবৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমর্থকরা হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের বাহিরে পাচার করেছে এবং নাগরিকত্ব নিয়েছে। যারা গণমাধ্যমকে জিম্মি করেছিল, রাষ্টীয় সম্পদ ভাঙচুর করেছিল তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি উঠছে। আওয়ামী লিগের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, যারা দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দায়ের করা হোক।
মোঃ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের যত সন্ত্রাসী তাণ্ডব হয়েছে প্রত্যেকটি উপযুক্ত সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে সঠিক তদন্ত করে বিচার করতে হবে। তারা যেন কেউ দেশের বাহিরে পালাতে না পারে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, বিগত ১৮ মাসে কী করেছে তার জবাব চাইতে হবে প্রকাশ্যে। কিভাবে ২২ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ হয়েছে তাও স্পষ্ট করতে হবে। তার নামে দুর্নীতি, আয়কর ফাঁকি, ট্যাক্সের ৬৬৬ টাকা মওকুফ এবং মামলা উঠিয়ে নেওয়া, তারপর ১৮ মাসে কত হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে তা জবাব চায় বাংলাদেশের জনগণ।
তাঁরা চান, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, দুর্নীতি ও অবিচার বন্ধ হোক। বাংলাদেশের জনগণ এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা চান দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক। অন্যায় ভাবে জেলখানার ভিতরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ কর্মী সমর্থককে বন্দী করে রাখা হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যাঁদের মিথ্যা মামলায় আটক করে রাখা হয়েছে তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সচেষ্ট হওয়া উচিত। বাংলাদেশের জনগণের দাবি, দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক, দেশের উন্নতি হোক।
