ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিউবাকে ঘিরে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। এক সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি হয়তো কিউবাকে নেওয়ার সম্মান অর্জন করতে পারেন এবং প্রয়োজনে সেখানে তিনি যা ইচ্ছে করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক এটি কি নিছক রাজনৈতিক ভাষণ, নাকি ভবিষ্যতের কোনও কঠোর কূটনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপের পূর্বাভাস?
বর্তমানে কিউবা গভীর অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানির ঘাটতি এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার জেরে দেশটিতে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্যসংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবায় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিকে সামনে রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে কিউবার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্পের বক্তব্যে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ না থাকলেও তাঁর ব্যবহৃত ভাষা থেকে একাধিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি “রেজিম চেঞ্জ” অর্থাৎ বর্তমান সরকারের পরিবর্তনের কৌশল হতে পারে, অথবা কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ে আনার প্রচেষ্টা। তবে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছলে সামরিক বিকল্পও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কিউবার বর্তমান নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ম্যাগুয়েল ডিয়াজ ক্যানেল-এর সরকার এই ধরনের মন্তব্যকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। হাভানা ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা কোনও ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলি, বিশেষ করে রাশিয়া, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে কিউবার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য শুধু কিউবা নয়, গোটা লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। অতীতে শান্ত যুদ্ধ চলাকালীন কিউবা ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের টানাপোড়েনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সেই স্মৃতি এখনও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে স্পষ্ট, এবং বর্তমান পরিস্থিতি অনেকের কাছেই সেই পুরনো উত্তেজনার পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত বহন করছে।
