ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল উত্তর কোরিয়া। শনিবার জাপান সাগরের দিকে অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের তরফে জানানো হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের সুনান এলাকা থেকে স্থানীয় সময় দুপুর নাগাদ পরপর এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের পর সেগুলি পূর্ব দিকে উড়ে গিয়ে জাপান সাগরে গিয়ে পড়ে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ৩৪০ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়ে গিয়ে সাগরে পড়েছে। যদিও জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের মধ্যে কোনও ক্ষেপণাস্ত্র পড়েনি এবং এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির পর দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উভয় দেশই পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলির গতিপথ ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় জাপানও সতর্কতা জারি করেছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের খবর পাওয়ার পরই দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য আদানপ্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াতেও।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার মাঝেই এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে পিয়ংইয়ং। দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের মহড়াকে উসকানিমূলক বলে দাবি করে আসছে উত্তর কোরিয়া। তাদের অভিযোগ, এই মহড়াগুলি আসলে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতির অংশ। সেই প্রেক্ষিতেই শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
