ওঙ্কার ডেস্ক : ৪টিতে তেল, ৬টিতে গ্যাস সহ হরমুজ়ের পশ্চিমে আটকে আরও ২২টি ভারতীয় জাহাজ। এগুলির মধ্যে কিছু জাহাজকে ইরান অধিকৃত প্রনালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে ইরান। শনিবার এমনটাই জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি। এ প্রসঙ্গে ভারত ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা বললেও এ ব্যাপারে বিশদে কিছু বলতে চাননি তিনি। তবে CNN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক বরিষ্ঠ পদাধিকারী জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে বানিজ্যিক লেনদেন ডলারে নয়, চিনের মুদ্রা ইউয়ানে করতে হবে।
ফাথালি জানিয়েছেন, “হ্যাঁ, আমরা অনুমতি দিয়েছি, তবে আমি আপনাকে বলতে চাই না যে কতগুলি। ভারতে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে, আমি ভবিষ্যতেও এই বিষয়টি অনুসরণ করব কারণ ইরান ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। অবশ্যই, একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে, আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। কিছু বিলম্ব হয়েছিল, কিন্তু তা ঘটেছে।”
পশ্চিম এশিয়ায় চলতি সংঘাতের মধ্যে ইতিমধ্যে দুটি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বেরোতে দেওয়া হয়েছে। শিবালিক এবং নন্দা দেবী নামে ওই দুটি তেল ট্যাংকার কয়েক দিনের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর পথে রয়েছে। এই জাহাজগুলি রাষ্ট্রায়ত্ত শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের মালিকানাধীন।
দুটি এলপিজি জাহাজের নিরাপদ উত্তরণের পর, যুদ্ধ-ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল অতিক্রম করার জন্য আরও ২২টি জাহাজ আটকে আছে। যার মধ্যে তেল রয়েছে ৪টিতে, ৬টিতে রয়েছে গ্যাস। এই সংকট থেকে সাময়িক সমাধানের জন্য ইরান একটি নতুন কৌশল নিয়েছে। তেহেরান যে শর্ত দিয়েছে তা এরকম- ইরান সীমিত সংখ্যক তেল ট্যাঙ্কারকে এই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে, তবে এই বাণিজ্যিক লেনদন আগের মতো মার্কিন ডলারে নয়,চিনা ইউয়ানে করতে হবে। রুশ পেট্রোপণ্যের ক্ষেত্রে শুধু ব্যাতিক্রম ছিল। তারা রুবেল বা চিনা ইউয়ানে লেনদেন করে আসছিল।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল। বর্তমান পরিস্থিতে যে সংকট দেখা দিয়েছে তাতে আশঙ্কা করা হচ্ছে তেলের দাম ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাবে। যদিও জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের উপর কোনোরকম বিধিনিষেধের ফলে গুরুতর মানবিক পরিণতি হতে পারে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল টম ফ্লেচার সেইসব বিপদের কথা ইতিমধ্যে তুলে ধরেছেন। ফ্লেচার জানিয়েছেন, “হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের ফলে বিশ্ব ব্যাপি খাদ্য, ওষুধ, সার এবং অন্যান্য সরবরাহ চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং তার ফলে এইসব সরবরাহ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।”
ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে চিনও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমানে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ তেল সরবরাহ করে। এর ফলে এই প্রনালীটি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু খার্গ দ্বীপে ইরানের তেল কেন্দ্রের কাছে সামরিক ঘাঁটিগুলিতে আমেরিকার ভারী বোমাবর্ষণের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী তেল ট্যাঙ্কারগুলিকে মার্কিন নৌবাহিনী পাহারা দেওয়া শুরু করবে বলে ট্রাম্পের ঘোষণায় ইরান আরও একরোখা হয়ে ওঠে। জবাবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকায় খার্গ দ্বীপ দখলের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।” ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এই খার্গ দ্বীপ দেশটির তেল শিল্পে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই দ্বীপটি ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি পরিচালনা করে, যা কিনা ইরানের জ্বালানির অন্যতম মেরুদণ্ড।
