ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত নৌমহড়ার অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে একটি ইরানি জাহাজে মার্কিন হামলার ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, যে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়েছে সেটি ছিল সম্পূর্ণ নিরস্ত্র এবং কোনও সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছিল না।
ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের নৌবাহিনীর একটি জাহাজ সম্প্রতি ভারতের আমন্ত্রণে একটি আন্তর্জাতিক নৌমহড়ায় অংশ নিতে এসেছিল। মহড়া শেষ হওয়ার পর জাহাজটি দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু ফেরার পথেই ভারত মহাসাগর অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডুবোজাহাজ থেকে টর্পেডো হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ তেহরানের। হামলার জেরে জাহাজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত ডুবে যায়।
ইরানের দাবি, জাহাজটি সেই সময় কোনও অস্ত্র বহন করছিল না এবং যুদ্ধের প্রস্তুতিতেও ছিল না। তাই এই হামলাকে “অপ্ররোচিত ও বেআইনি আগ্রাসন” বলে আখ্যা দিয়েছে তারা। তেহরানের মতে, আন্তর্জাতিক নৌমহড়ায় অংশগ্রহণ করে ফেরার পথে থাকা একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন ও নৌ-নিরাপত্তা নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই ঘটনায় বহু নাবিকের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাজটিতে থাকা একাধিক কর্মী মারা গিয়েছেন এবং কয়েক জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজ বাকিদের খোঁজে এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। আশপাশের সমুদ্র এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং উদ্ধারকাজে অন্যান্য দেশের নৌবাহিনীও সহায়তা করছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই ইরান কড়া ভাষায় আমেরিকার সমালোচনা করেছে। তেহরানের তরফে জানানো হয়েছে, এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহি করতে হবে। পাশাপাশি তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে ইরান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনিতেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা চরমে রয়েছে। তার উপর সমুদ্রপথে এই ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
