ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশে নৃশংস ও শিউরে ওঠার মতো এক হত্যাকাণ্ড ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্যের দামোহ জেলার একটি গ্রামে এক কিশোরকে নির্মমভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু হত্যাই নয়, অভিযোগ উঠেছে যে খুনের পর ওই কিশোরের রক্ত পান করে এবং তার দেহের মাংস খাওয়ার চেষ্টাও করে অভিযুক্ত। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত কিশোরের বয়স প্রায় ১৬ বছর। সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বোনের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। সেই সময় গ্রামের মধ্যেই অভিযুক্ত ব্যক্তি হঠাৎ তার উপর হামলা চালায়। অভিযোগ, প্রথমে লোহার রড ও পরে হাতুড়ি দিয়ে বারবার আঘাত করা হয় কিশোরের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে। অত্যন্ত নৃশংসভাবে আঘাত করার ফলে ঘটনাস্থলেই কিশোরের মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, খুন করার পর অভিযুক্ত কিশোরের শরীর থেকে বের হওয়া রক্ত পান করতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, তার দেহের মাংস খাওয়ার চেষ্টাও করতে দেখা যায় তাকে। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আশপাশের মানুষজন। অনেকেই চিৎকার করে লোকজনকে ডাকেন এবং ঘটনাস্থলে ভিড় জমতে শুরু করে। গ্রামবাসীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে গ্রামবাসীরা তাকে ধাওয়া করে আটকায় এবং পুলিশের হাতে তুলে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ ছিল এবং কিছুদিন আগেই সে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিল। তার মানসিক অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার পর থেকেই নিহত কিশোরের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনার কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। একই সঙ্গে এই ভয়াবহ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়।
