ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরাখন্ডে অ্যাঞ্জেল চাকমার পর এবার মধ্যপ্রদেশে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হলেন আসামের হিরোস জ্যোতি দাস। ত্রিপুরার বাসিন্দা হিরোস মধ্যপ্রদেশের জাতীয় কলেজের স্নতাকোত্তর বিভাগে পঠরত ছাত্র। অনুপুড় জেলার ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ট্রাইবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে অসমের এক স্নাতকোত্তর পড়ুয়াকে মারধরের অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ, হস্টেলের মধ্যেই কয়েকজন সহপাঠী ওই ছাত্রকে ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের বহিষ্কার করে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই মনে পড়ছে গত বছেরের ডিসেম্বরে দেরাদুনে ঘটে যাওয়া অ্যাঞ্জেল চাকমার মৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ছবি। প্রসঙ্গত, ত্রিপুরার বাসিন্দা ২৪ বছরের অ্যাঞ্জেল চাকমা এবং তাঁর ভাই ম্যাইকেল এমবিএ পড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গিয়ে আচমকাই কয়েকজনের সঙ্গে বচসার পর পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস হয়ে ওঠে। অভিযোগ ছিল, উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও কটাক্ষের পরই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় তাঁর।
অ্যাঞ্জেল চাকমার মৃত্যু শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি হিসেবেই নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে জাতীয় স্তরে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। বিভিন্ন রাজ্যে পড়তে বা কাজ করতে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের প্রতি বৈষম্য, অপমান এবং হিংসার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে। মধ্যপ্রদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাও সেই উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন বহু শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান গড়ে তোলা প্রশাসনের বড় দায়িত্ব। একের পর এক ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখিয়ে দিচ্ছে, কেবল আইনগত ব্যবস্থা নয়, সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।
