শুক্লা মাইতি ;
মেয়াদ শেষ হবার আগেই পদত্যাগ করলেন রাজ্যপাল সি.ভি. আনান্দ বোস। তার জায়গায় রাজ্যের নয়া রাজ্যপাল হিসাবে নিযুক্ত হলেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল তথা প্রাক্তন আইপিএস আর .এন. রবি ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আসে রাজ্যপাল সি.ভি আনন্দ বোসের পদত্যাগের খবর । বৃহস্পতিবার বিকেলেই দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি । রাষ্ট্রপতির কাছেই পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছে আনন্দ বোস। তবে কী কারনে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত তা নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ।
জানা যাচ্ছে অস্থায়ী ভাবেই রাজ্যপাল পদে আসীন হয়েছেন আর.এন.রবি । তবে কেন্দ্রের এই সিধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এক্স-এ লিখেছেন, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন যে শ্রী আর এন রবিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত করা হচ্ছে। তিনি এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত রীতি অনুসারে কখনও আমার সঙ্গে পরামর্শ করেননি। এই ধরনের কর্মকাণ্ড ভারতের সংবিধানের চেতনাকে ক্ষুন্ন করে এবং আমাদের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আঘাত হানে। কেন্দ্রকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রীয়তার নীতিগুলিকে সম্মান করতে হবে এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং রাজ্যগুলির মর্যাদা ক্ষুন্ন করে এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।”
আর এন রবি অর্থাৎ রবীন্দ্র নারায়ণ রবি, হলেন একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ তবে তারও আগে তিনি ছিলেন একজন আইপিএস আধিকারিক। উল্লেখ্য, বিহারের পাটনায় জন্মগ্রহণকারী রবি ১৯৭৬ সালে ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করেন, সাংবাদিক হিসেবে কিছুদিন কাজ করার পর। তিনি কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো এবং গোয়েন্দা ব্যুরোতে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে তিনি যৌথ গোয়েন্দা কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার উপদেষ্টা হন।
আমলাতান্ত্রিক চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর, রবি ২০১৯ সালের আগস্টে নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল নিযুক্ত হন এবং ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মেঘালয়ের রাজ্যপাল হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০২১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।২০২১ সালে তামিলনাড়ুর ১৫তম রাজ্যপালের দায়িত্ব গ্রহণ করেন । ইতিপূর্বে নাগাল্যান্ড এবং মেঘালয়েরও রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে রাজ্যপালের পদত্যাগ এবং অস্থায়ীভাবে তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের ক্ষমতা গ্রহণ নতুন কি রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করে সেটাই এখন দেখার।
