
বাবলু প্রামাণিক,দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা:মানসিক প্রতিবন্ধকতার জন্য পড়াশোনা না করতে পেরে আঁকড়ে ধরেছিলেন খেলাধূলাকে। তারপরে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য। অলিম্পিকে জোড়া রুপো জিতেও নূন্যতম সরকারি সাহায্যটুকুও পাননি তিনি। বর্তমানে ভাঙাচোরা একতলা ঘরে মা ও মানসিক প্রতিবন্ধী দিদির সঙ্গে অভাবে দিন কাটছে বছর চল্লিশের দৌড়বিদ পুলক রায়ের ।
জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়ার বাসিন্দা পুলক। ছোট থেকেই মানসিক বিকাশে সমস্যা রয়েছে তাঁর। তাঁর এক দিদিরও একই সমস্যা। ছেলে-মেয়ের এই মানসিক পরিস্থিতিতে তাঁদের খেলাধূলায় ব্যস্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেন বাবা-মা। দৌড়ে আগ্রহ ছিল দু’জনেরই। পাড়ার মাঠে স্থানীয় কোচের কাছে শুরু হয় তাঁদের দৌড় প্রশিক্ষণ। সেখান থেকে ক্রমশ বড় শহর হয়ে কলকাতার এক ক্লাবে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান তাঁরা। শুরু হয় এক স্বপ্নের উড়ান। ।। জাতীয় স্তরে পরপর সোনা জিতে ২০১১ সালে গ্রিসের আথেন্সে অনুষ্ঠিত মানসিক প্রতিবন্ধীদের স্পেশাল অলিম্পিকে যাওয়ার ছাড়পত্র জোগাড় করে নেন। সেই অলিম্পিকে ৮০০ মিটার ও ১৫০০ মিটার দৌড়ে রুপো জিতে শেষ করেন তিনি।
পুলকের বাবা একটি দোকানে কাজ করতেন। মা গৃহবধূ। সংসারে আর্থিক সমস্যা ছিলই। তা সত্ত্বেও মানসিকভাবে পিছিয়ে থাকা ছেলে-মেয়েকে জয়নগরের বাড়ি থেকে কলকাতায় নিয়মিত প্রশিক্ষণে নিয়ে যেতেন বাবা-মা। ছেলের সাফল্যের পর তাঁরা ভেবেছিলেন সুদিন আসবে। কিন্তু তা হয়নি। পুলকের মা দুর্গা রায় জানান, জিতে আসার পর ক’দিন খুব হই-চই হয়। কলকাতার বড় হলে ডেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশে থাকার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। কিন্তু স্থানীয় পুরসভার তরফে হাজার পাঁচেক টাকা আর্থিক সাহায্য ছাড়া সেভাবে আর কিছুই মেলেনি। এই বিষয়ে পুলক রায় বলেন, “বাবা মারা গেলেন, মাও অসুস্থ হয়ে পড়লেন। সেই কারণে আর খেলাধূলা এগোয়নি। নাহলে হয়ত আরও একটা অলিম্পিকে নামতে পারতাম। এখন ছবি আঁকাই। কোনওরকমে হাতখরচটা জোগাড় হয়। পাড়ার মাঠে প্র্যাকটিসটা রোজ করি।”বর্তমানে পুলকের বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে। ছেলেবেলায় খোলাধূলার পাশাপাশি আঁকা শিখেছিলেন কিছু দিন। সেই বিদ্যেকে সম্বল করে পাড়ার দু’-একটি ছেলেমেয়েকে আঁকা শিখিয়ে সামান্য রোজগার করেন। এভাবেই অতিকষ্টে সংসার চলে,তাকিয়ে রয়েছেন সরকারি সাহায্যের দিকে।