ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ইরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল সৌদি আরব। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই আলোচনায় সৌদি আরব ইরানকে জানিয়ে দিয়েছে যে, অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও বাড়ুক তা তারা কোনওভাবেই চায় না। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি বলেও জোর দেওয়া হয়েছে।
সৌদি প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেল সরবরাহ, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই কারণেই রিয়াদ চাইছে যাতে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হয় এবং সংঘাত আর না বাড়ে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আলোচনায় সৌদি আরব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা এই সংঘাতে সরাসরি জড়াতে চায় না এবং তাদের ভূখণ্ডকে কোনও সামরিক সংঘর্ষের অংশ হতে দিতে আগ্রহী নয়। একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা কমাতে সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সৌদি আরবের মতে, সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান খোঁজা উচিত।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তেল উৎপাদন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল যুদ্ধের প্রভাব পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই সৌদি আরব পরিস্থিতি সামাল দিতে একদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার মাধ্যমে সৌদি আরব একদিকে সংঘাত এড়ানোর বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে প্রয়োজনে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই কূটনৈতিক যোগাযোগকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
