নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রীর প্ররোচনায় বিজেপি কর্মীরা রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। মোদীর ব্রিগেড সমাবেশের পরপরই এমন অভিযোগ এনেছে তৃণমূল। শনিবার বিকেলে তৃণমূল ভবনে জরুরি সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বিজেপির বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও হিংসার অভিযোগ তোলেন মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, শশী পাঁজা এবং দলের সাংসদ সায়নী ঘোষ। ব্রাত্য বস্য বলেন, “আজ ব্রিগেডে বক্তৃতা দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী যে সুরে ভাষণ দিয়েছেন তারই প্রতিফলন দেখা গেছে গিরিশ পার্কের ঘটনায়।” বিজেপি কর্মীরা যেভাবে মন্ত্রী শশী পাঁজার বাসভবনে ভাঙচুর চালিয়েছে তা নজিরবিহীন বলে অভিযোগ করেছেন ব্রাত্য বসু। তাঁর প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীর কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে এবং প্ররোচিত হয়ে কি এই আক্রমণ করা হয়েছিল ?”
তিনি আরও বলেন, “কোনও রাজ্যে আমরা এমন নজির পাইনি যেখানে একজন বর্তমান মন্ত্রীর বাসভবনে পাথর, বোতল এবং কাঁচের টুকরো দিয়ে এইভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন শান্তিপূর্ণ ও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলার বার্তা দিচ্ছেন, তখন নির্বাচনের ঠিক আগে বিজেপি এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী মোদীর সমাবেশের আগে, উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায় মন্ত্রী শশী পাঁজার বাসভবনে পাথর ছোঁড়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশের দিকে যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মীরা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। শশী পাঁজা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনিও আহত হয়েছেন। যদিও, বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে যে গিরিশ পার্কের মধ্য দিয়ে মিছিল করার সময় তৃণমূল কর্মীরা তাদের কর্মীদের দিকে ইট ছুঁড়ে মারে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত শশী পাঁজা তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: “আজ, ব্রিগেড সমাবেশে যাওয়ার পথে, বিজেপি কর্মীরা আমার বাসভবনের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। আমাদের সহকর্মীরা যখন ফ্লেক্স ব্যানার লাগাচ্ছিলেন, তখন বাসে থাকা বিজেপির টুপি পরা একটি দল ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে দিতে হামলা চালাতে থাকে।”
নিজের আঘাতের কথা উল্লেখ করে শশী পাঁজা বলেন: “আমার দিকে সরাসরি ইট ছুঁড়ে মারা হয়েছে এবং তা আমার পেটে আঘাত করেছে। আগের অস্ত্রোপচারের স্থানে আমারও আঘাত লেগেছে।” গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এই ধরনের কাজের কোনও স্থান নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শশী পাঁজা সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর “প্রতিশোধ নিষ্পত্তি” করার সতর্কীকরণের কথা উল্লেখ করে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, “একজন প্রতিমন্ত্রীর উপর আক্রমণ কি ‘প্রতিশোধ নিষ্পত্তি’র উদাহরণ ? আপনি কি কেবল বিজেপির প্রধানমন্ত্রী, নাকি সমগ্র দেশের ?”
জানা গেছে যে শুভম, সৌভিক এবং কৃষ্ণ নামে তিনজন তৃণমূল কর্মী এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের বুকে এবং মাথায় আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
