ওঙ্কার ডেস্ক: ভিন ধর্মের ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন মেয়ে, আর সে কারণে নিজের সন্তানকে বিষ খাইয়ে খুন করার অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের ফতেহপুর জেলায়। পুলিশ জানতে পেরেছে নিহত ফারজানা নামের ওই তরুণীকে তাঁর মা এবং ভাই মিলে হত্যা করেছে। ফারজানা এক হিন্দু যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে ফারজানার পরিবার অভিযোগ করে নিহত তরুণীর প্রেমিক তাঁকে খুন করেছে বলে। কিন্তু তদন্তে নেমে জানা যায়, ফারজানার মা এবং ভাই মিলে তাঁকে খুন করেছে। একজন হিন্দু পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের ফলে সামাজিক সম্মান নষ্ট হবে এই আশঙ্কায় তাঁকে সালফস পাউডার খেতে বাধ্য করেছিলেন তাঁরা। পরে পুলিশকে অভিযোগ করেন, তার প্রেমিককে বিষাক্ত কিছু খাইয়েছেন বলে।
পুলিশ জানিয়েছে, গাজিপুর এলাকার বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী ফারজানা গত বছরের অক্টোবরে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সুনীল যাদবের সংস্পর্শে আসেন। দুজনে ফোন নম্বর আদান প্রদান করেন। বন্ধুত্ব গড়ে উঠলে সুনীল তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন বলে অভিযোগ। পরে ফারজানা গর্ভবতী হন। বিষয়টি যখন সে সুনীলকে জানায়, তখন সুনীল তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। প্রায় আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ফারজানার গর্ভপাত করায় সুনীল। গর্ভপাতের পর ফারজানার অবস্থা আরও খারাপ হয় এবং তার পরিবার এ বিষয়টি জানতে পারে।
গর্ভাবস্থা জানতে পেরে তার মা এবং ভাই ফারজানাকে মারধর করে। ঘর থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ।পুলিশ জানিয়েছে, ফারজানা যখন সুনীলকে বিষয়টি জানান, তখন তাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান সুনীল। প্রায় পাঁচ দিন ধরে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। এদিকে, তাঁর মা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে৷ অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ ফারজানাকে খুঁজতে শুরু করে। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ফতেহপুর রেলস্টেশনে ফারজানাকে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। জিআরপি এবং আরপিএফ কর্মীরা তাঁকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়।সেখানে, ফারজানা জবানবন্দিতে বলেন, নবরাত্রির সময় তাঁর এবং সুনীলের মধ্যে কথা শুরু হয়েছিল। সুনীল তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তার গর্ভবতী হওয়ার পর তাঁকে ওষুধ দেয়। ফারজানার স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার পর সুনীল তাঁকে রেলস্টেশনে রেখে চলে যায়। এর পর, ফারজানা সুনীলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে এবং তাঁর বয়ান রেকর্ড করার এবং মেডিকেল পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করে। কিন্তু তাঁর পরিবার তাঁকে নিয়ে যায়, পুলিশকে আর না এগোতে। অনুরোধ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ১-২ মার্চ রাতে ফারজানাকে একটি মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার মা এবং ভাই তাকে সালফস পাউডার খেতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ। যার ফলে তার মৃত্যু হয়। তার মা এরপর পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, সুনীলকে অভিযুক্ত করে। তদন্তে নেমে পুলিশ আফসানা (৪৮) এবং তার ভাই আফসার (২৬)কে গ্রেফতার করেছে।
