ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সামনে এসেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বাব এল-মানদেব প্রণালীও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।
ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত ক্রমশ বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ও তাদের সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এর প্রভাব পড়ছে সমুদ্রপথের নিরাপত্তাতেও। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়। এই পথ দিয়ে বিশ্বে মোট জ্বালানি পরিবহনের একটি বড় অংশ যাতায়াত করে। ফলে সেখানে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীও সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, প্রয়োজনে তারা যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে পারে। তাদের বক্তব্য, ইরানের বিরুদ্ধে চলা হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে আঘাত হানতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি হুথিরা সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে বাব এল-মানদেব প্রণালী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
বাব এল-মানদেব প্রণালী ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত কৌশলগত একটি জলপথ। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এই রুটের গুরুত্ব অপরিসীম। সুয়েজ খাল ব্যবহার করে যে বিপুল সংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজ ইউরোপ থেকে এশিয়া বা এশিয়া থেকে ইউরোপে যাতায়াত করে, তাদের অধিকাংশকেই এই প্রণালী অতিক্রম করতে হয়।
ফলে এই প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব বাণিজ্যে বড়সড় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাহাজগুলিকে তখন অনেক দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হবে, যার ফলে পরিবহণের সময় ও খরচ দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি বাজার, খাদ্যশস্য পরিবহণ এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্যের আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত আকার নেয়, তাহলে শুধু স্থল বা আকাশপথেই নয়, সমুদ্রপথেও বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতে পারে। আর তার প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ওপর।
