ওঙ্কার ডেস্ক: ইজরায়েল-ইরানের ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শীর্ষ সেনা আধিকারিক ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের মৃত্যুর পরই আত্মগোপন করেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই। ৫ জুন শনিবার সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে এলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। রাজধানী তেহরানের এক শিয়া মসজিদে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন খামেনেই। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করে। এদিন খামেনেইকে দেখা যায় তাঁর ঐতিহ্যবাহী কালো পোশাকে শান্ত ভঙ্গিতে মসজিদে প্রবেশ করছেন তিনি। উপস্থিত ভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি শীর্ষ ধর্মগুরু মাহমুদ করিমিকে আহ্বান করেন ‘ও ইরান’ দেশাত্মবোধক গান গেয়ে, যা সম্প্রতি যুদ্ধে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল ইরানের মানুষজনদের কাছে।
গত ১৩ জুন মধ্যরাতে ইজরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু ও সামরিক কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাব দেয় তেহরান ইজরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে চালানো হয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। এই সংঘর্ষে ইরানের একাধিক শীর্ষ সেনা আধিকারিক, এবং পরমাণু গবেষক প্রাণ হারান। পাশাপাশি ২২ জুন থেকে আমেরিকাও সরাসরি যুদ্ধে শামিল হয়ে ইরানের ফোর্ডো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান পরমাণু কেন্দ্রে বিমান হানা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ‘‘ইরানের পরমাণু প্রকল্প কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।’’ পাল্টা খামেনেই অবশ্য ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, ‘‘আমরা বিজয়ী, আমেরিকা কিছুই পায়নি।’’
যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতিতে শীর্ষ নেতা খাময়েইয়ের জনসমক্ষে দেখা না মেলায় আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। এমনও শোনা গিয়েছিল, ইজরায়েল ও আমেরিকার নিশানা থেকে বাঁচাতে তাঁকে সুরক্ষিত গোপন বাঙ্কারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি, তাঁর নিরাপত্তার জন্য তেহরান বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করে। কিন্তু শনিবার প্রাক্কালে তাঁকে জনসমক্ষে দেখে এই জল্পনার অবসান ঘটে। কূটনীতিকদের মতে, এই উপস্থিতি একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়, ইরান এখনও ভয় পায়নি, শীর্ষ নেতৃত্ব লুকিয়ে থাকছে না, বরং সঙ্কটের মধ্যেও দেশকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
