নয়ন বিশ্বাস রকি
দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব চলছে। সরকারি হিসাবে ইতোমধ্যে ৩৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি বিভিন্ন সূত্রের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা এর কয়েকগুণ বেশি। হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছে প্রায় ৫০ হাজার শিশু — এই সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে।
যে শিশুটি আজ মারা যাচ্ছে, সে-ই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। জাতিকে সঠিক পথে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার। আজ সেই ভবিষ্যৎকেই আমরা হারাচ্ছি। মায়ের কোল খালি হচ্ছে, পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ — কোনো সভ্য সমাজে এ দৃশ্য মেনে নেওয়া যায় না।
জনমনে প্রশ্ন: সরকারের ভূমিকা কী ?
মহামারী নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান, আইসিইউ সুবিধা ও জরুরি ওষুধ সরবরাহ রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব। অথচ মাঠপর্যায়ে টিকার সংকট, হাসপাতালে শয্যা ও অক্সিজেনের অভাবের অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের নীরবতা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজ বলছে, স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
অতীত বনাম বর্তমান, তুলনামূলক চিত্র
কোভিড-১৯ মহামারীর সময় শেখ হাসিনার সরকার বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত টিকাদান কর্মসূচি চালিয়েছিল। টিকার ঘাটতি হয়নি, মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে ছিল। দেশবাসী তুলনা করছে: তখন যদি সম্ভব হয়, আজ হামের মতো প্রতিরোধ যোগ্য রোগে কেন এত শিশু মারা যাবে?
৪ দফা দাবি
- জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন — প্রতিটি ইউনিয়নে ৭ দিনের মধ্যে ৯ মাস-১৫ বছরের সব শিশুকে হামের টিকা।
- স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ প্রতিদিন আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার জেলাভিত্তিক ডাটা প্রকাশ করতে হবে।
জবাবদিহিতা নিশ্চিত,স্বাস্থ্যখাতে অবহেলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার। - ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ— মৃত শিশুর পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা।
আজ যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, জনগণের প্রশ্নের উত্তর তাদেরই দিতে হবে। যদি সুষ্ঠু সেবা নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে নৈতিক দায় নিয়ে পদ ছাড়ুন — এটাই জনগণের দাবি। এই মহামারীতে নীরব থাকা মানে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো। বাংলার মাটিতে একদিন এর বিচার হবেই। যথাসময়ে। দেশবাসীর কাছে অনুরোধ, আপনারা সজাগ হোন। তথ্য যাচাই করুন, সিদ্ধান্ত নিন। শিশুর জীবন নিয়ে রাজনীতি নয় — সমাধান চাই, এখনই।
লেখক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেক