ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে ডেঙ্গির প্রকোপ ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত সমতলেই এই রোগের বিস্তার সীমাবদ্ধ থাকলেও, এবার পাহাড়ি অঞ্চলও বাদ যাচ্ছে না। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ সূত্রে খবর, এই প্রথম বাংলার এত উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে ডেঙ্গির অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবে ধরা পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের প্রভাবে পাহাড়ের আবহাওয়ায় এখন উষ্ণতার ছোঁয়া আসছে। ফলে পাহাড়েও ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
দার্জিলিং জেলার কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রেও ডেঙ্গির লার্ভা মিলেছে। জেলার অন্যতম উঁচু গন্তব্য লাভা (৭,২১৮ ফুট) এবং বাংলা-নেপাল সীমান্তের অফবিট স্পট সুখিয়াপোখরিতেও (৭,১৯৮ ফুট) ডেঙ্গি মশার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। মাঝারি উচ্চতার শহর কালিম্পংয়েও লার্ভা আগেই মিলেছিল। এ বছরও সেখানে প্রচুর মশার জন্ম হয়েছে।
এখনই শুরু হতে চলেছে পর্যটন মরশুম। বহু পর্যটক পাহাড়ে যাবেন ঘুরতে। এক স্বাস্থ্যকর্তা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দক্ষিণবঙ্গ বা কলকাতা থেকে অনেকেই ডেঙ্গির ভাইরাস বয়ে নিয়ে পাহাড়ে যেতে পারেন। সংক্রমণ রোধ না করা গেলে পরিস্থিতি দ্রুতই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকায় জলসংকট মোকাবিলার জন্য বাড়ি বা আবাসনে বড় পাত্রে জল জমিয়ে রাখার প্রবণতা বেশি। সেই জমা জলেই বাড়ছে এডিস মশার লার্ভা। তাই পাত্রের মুখ কাপড় বা ঢাকনা দিয়ে বন্ধ রাখা জরুরি। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা সঙ্গে রাখতে হবে রিপেলেন্ট, ক্রিম বা মশার কয়েল।
এ বছর গোটা রাজ্যে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছ’হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। সংক্রমণের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ (১,০৯৭), উত্তর ২৪ পরগনা (৯৬৮) এবং হুগলি (৫১৮)। পাহাড়ে নতুন করে সংক্রমণের হানা রাজ্যের জন্য এখন বড়সড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
