বিপ্লব দাশ : ঘরে বাইরে ঝড়ের পূর্বাভাস ছিলই, বুঝতে দেরী হয়নি পোড় খাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের। তাই বোধ হয় ঘুরে দাঁড়ালেন ট্রাম্প। নিজের মর্জিতে, না, বাধ্য হয়ে তা ভবিষ্যৎ বলবে। আপাতত ভারতকে কেন্দ্র করে যে মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল, তা যে এখনই সামাল দেওয়া উচিত নাহলে বিপদ বাড়বে এটা বিলক্ষণ বুঝেছেন কার্যত বেনিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের দেশে বিরোধীদের থেকে তো বটেই, নিজের দলের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। আমেরিকার মতো এক দাম্ভিক দেশের রাষ্ট্রনায়ক হতে গেলে যে মর্যাদা বজায় রেখে চলতে হয় সেখানে কেমন একটা ক্ষয় দেখা দিচ্ছিল। নারীদের নেক নজর তো ছিলই, সেই সঙ্গে ইরান, পাকিস্তান, ইউক্রেন নিয়ে একের পর এক আমেরিকার জাত্যভিমানে আঘাত করছিল তাঁর হঠকারী এবং কোথাও কোথাও ব্যক্তি স্বার্থের পদক্ষেপ। আমেরিকার মতো রাষ্ট্রের নায়ক হতে গেলে যে স্থির চিত্ত, বিচক্ষণতা ও অধিনায়কোচিত ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন, তার ঘাটতি দেখা যাচ্ছিল ট্রাম্পের মধ্যে। যা দেশের নাগরিকদের বিচলিত করছিল। আঘাত হানছিল দলীয় রাজনীতিতেও।
ইতিমধ্যে হাভার্ট ইউনিভার্সিটির আইনি লড়াইতে মুখ পুড়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের। তার সঙ্গে যুক্ত হয় তাঁর একগুঁয়ে শুল্ক বিন্যাস। বিভিন্ন দেশের রোষের মুখে পড়ে আমেরিকা। যা ক্রমেই মার্কিন নাগরিকদেরর দৈনন্দিন জীবনকেও প্রভাবিত করছিল। সবচেয়ে বড় আঘাত আসতে চলেছিল ভারতের দিক থেকে। সম্প্রতি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাজেশনের শীর্ষ সম্মেলনে ভারত রাশিয়া চিনের সৌহার্দ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি যে ঘুরে দাঁড়াতে বাধ্য হবেন তা অবশ্যই আন্দাজ করতে পেরেছিল আন্তর্জাতিক মহল। বিশ্ব রাজনীতিতে সম্ভাব্য অক্ষশক্তির জাগরণ যে আমেরিকার পক্ষে মোটেই শুভকর নয় তা টের পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিহিংসা পরায়ণতা থেকে ভারতকে জব্দ করার কৌশল যে ভালো হচ্ছে না তা টের পেতেই কার্যত ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাঁড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
খানিকটা দেরী হলেও তিনি যে বাস্তবকে স্বীকার করতে পেরেছেন এটাই বড় কথা। যদিও এর মধ্যে মার্কিন প্রশাসনের ইতিহাসে তিনি নিজেকে সবচেয়ে বিচলিত ও হঠকারী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজেকে দাগিয়ে নিয়েছেন। আপাতত তিনি ভারতের দিকে তাকিয়ে ভাবী সংকটের হাত থেকে নিজেকে কতটা সংশোধনবাদী করে তোলেন তার উপর নির্ভর করছে মার্কিন রাষ্ট্রনায়কের গরিমা। যদিও, এর মধ্যে এমন কিছু কাণ্ড তিনি বাধিয়ে ফেলেছেন তা তাঁর পথের কাঁটা হয়েই থাকবে।
