তাপস মহাপাত্র
২০২৫ সালকে ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের বছর হিসেবে ধরছে কেন্দ্র। মোদী সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং আর্থিক বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ভারত বিশ্বের চতুর্থ আর্থিক শক্তিশালী দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে। বলা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, কাঠামোগত সংস্কার ও স্থিতিশীল নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভারত দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পেরেছে। তাই কেন্দ্রের আশা, খুব শিগগির ভারত বিশ্বে তৃতীয় স্থান নেবে। অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা, পুঁজির যোগান, ডিজিটাল পরিকাঠামোর বিস্তার এবং উৎপাদন ও পরিষেবা—প্রত্যেক ক্ষেত্রেই শক্তিশালী পদক্ষেপ আর্থিক অগ্রসরে বাড়তি গতি দিয়েছে। যার সাফল্য হিসেবে দেখানো হচ্ছে চলতি আর্থিক বছরের শেষার্দ্ধে জিডিপি বৃদ্ধির হার।
কেন্দ্রের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫-এর নভেম্বরে বেকারত্বের হার নেমে এসেছে ৪.৭%-এ, যা এপ্রিল ২০২৫-এর পর সর্বনিম্ন। উপভোক্তা মূল্য সূচক অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতি জানুয়ারি ২০২৫-এর ৪.২৬% থেকে কমে নভেম্বর ২০২৫-এ ০.৭১% হয়েছে। নভেম্বর ২০২৫-এ পণ্য রপ্তানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কেন্দ্রের দাবি, ভোগ্যপণ্যের বেড়ে চলা চাহিদা, বর্ধিত বিনিয়োগ এবং সরকারের তরফে পুঁজির যোগানের ব্যবস্থা ভারতের বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.৩% করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিও ভারতের বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। একই সঙ্গে বিচক্ষণ রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর মুদ্রানীতি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।
পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে অনুযায়ী, কর্মসংস্থানের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি, নির্মাণ, পরিষেবা এবং MSME ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি, মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ভারতের অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করেছে। সরকারের নীতিগত পদক্ষেপ, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি এবং সময়োচিত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের ফলে ২০২৫ সালে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থেকেছে। খাদ্য ও জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়া সত্ত্বেও সার্বিক মূল্যস্তর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। পণ্য ও পরিষেবা—উভয় ক্ষেত্রেই ভারতের রপ্তানি স্থিতিশীল থেকেছে। বিশেষ করে পরিষেবা রপ্তানি বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার আন্তর্জাতিক স্তরের ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারতের সক্ষমতা আরও জোরদার করেছে বলে দাবি কেন্দ্রের।
এই আর্থিক উন্নতির প্রভাব সাধারণ মানুষের কাছে কতটা স্বস্তির হয়ে উঠছে তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। খাতায় কলমে যা বলা হচ্ছে তা অবশ্য বাজার দরের সঙ্গে কোথায় যেন একটা সংঘাত তৈরি করছে। ফাঁকটা কোথায় তা তার উপর এবার নজর দেওয়ার সময় হয়েছে। কারণ, দেশের আর্থিক সক্ষমতা যদি সাধারণ মানুষের অনুকূলে না যায় তাহলে তা সোনার পাথর বাটি হয়ে থাকবে।
