ওঙ্কার ডেস্ক: বিহারের ভোটার তালিকার বিশেষ ও নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। ভোটারদের জন্য নির্দিষ্ট নথির তালিকা বাধ্যতামূলক করায় ক্ষুব্ধ বিরোধীরা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের আইনজীবী জানিয়েছেন, এই সংশোধন প্রক্রিয়া এখনই বন্ধ করলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে বড় প্রভাব পড়বে। তাই আদালতের কাছে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি ধুলিয়া শুনানিতে জানিয়ে দেন, “আমরা কমিশনের কাজ আপাতত বন্ধ করছি না। তবে ১ অগস্টের আগে যদি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা থাকে, তবে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফের শুনানির জন্য বিষয়টি আদালতের সামনে তোলা যাবে।”
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা ভোটারদের সমস্যার কিছু নেই। কিন্তু বাকিদের জন্মসনদ বা বাবা-মায়ের জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ড গ্রহণযোগ্য নয় এই নিয়মেই আপত্তি বিরোধী দল ও সমাজকর্মীদের। তাঁদের দাবি, এর ফলে অন্তত তিন কোটি মানুষ ভোটাধিকার হারাতে পারেন।
বিচারপতি ধুলিয়া শুনানিতে কমিশনকে সহজ ও স্বচ্ছ পদ্ধতি মেনে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিক ভাবে দেখে বিষয়টি জটিল মনে হচ্ছে। কমিশনের উচিত সহজতর নথি বিবেচনা করা, যাতে ভোটাররা অহেতুক হয়রানির শিকার না হন।” আধার কার্ড প্রসঙ্গে কমিশনের আইনজীবী যুক্তি দেন, “আধার কার্ড থাকা নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, বরং ভারতের বাসিন্দাদের দেওয়া হয়।” পাল্টা বিচারপতি ধুলিয়ার পর্যবেক্ষণ, “যখন জাতি শংসাপত্রের জন্য আধার গ্রহণযোগ্য, তখন ভোটার তালিকায় তা বাদ দেওয়া কীভাবে যৌক্তিক?” এদিন শীর্ষ আদালত কমিশনকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় নথির তালিকায় আধার, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা কমিশন বিবেচনা করবে। তবে সেগুলি বাদ দিলে যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে হবে।
আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে সংশোধনের কাজ শেষ করতে চায় কমিশন। বিরোধীদের আশঙ্কা, জটিল নথি-প্রক্রিয়া বড় অংশের মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে। সেই প্রশ্নেই শেষ কথা বলবে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানি।
