নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া : হাওড়া পুরসভার প্রশাসকমন্ডলীর চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন সুজয় চক্রবর্তী। তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন পুর ও নগর উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কাছে। রবিবার সুজয় বাবু জানান, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ২৫ তারিখে দফতরের মাননীয় মন্ত্রীকে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, “কারোর নির্দেশে নই, সম্পূর্ণ নিজের ব্যক্তিগত কারণে এই পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।” তিনি আরও জানান “গত চার বছর এমন কোনও কাজ করেনি, যাতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।”
দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ জানতে চাওয়া হলে সুজয় চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞটা জানিয়ে বলেন, “হাওড়ায় ৫-৬ লক্ষ মানুষ। দলের থেকে এই দায়িত্ব আমার কাছে বিশাল প্রাপ্তি। তবে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত একেবারেই ব্যক্তিগত।”
একদিন আগেই হাওড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সৈকত চৌধুরী। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তাঁর ওয়ার্ডেই পিছিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। শোনা যায়, সেই কারণেই দল তাঁকে এতদিন পর পদত্যাগের নির্দেশ দেয়। তাঁর হাতে থাকা দফতর সেইসময় দেওয়া হয়েছিল সদ্য পদত্যাগী সুজয় চক্রবর্তীর হাতে। এবার তিনিও নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন।
এদিকে পদত্যাগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। কয়েকমাস আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাবেই জানিয়েছিলেন, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বেশ কিছু পুরসভায় চেয়ারম্যান বদল হতে পারে। তার কয়েকদিনের মধ্যেই হাওড়া পুরসভার চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তীর ইস্তফা দিলেন।
একুশের নির্বাচনের আগেও ঠিক শাসক দলের বেশকিছু পদাধিকারী ইস্তফা দিয়েছিল। বছর ঘুরলেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন। এবারও ভোটের আগে ফের একের পর এক পদত্যাগ কি নতুন করে দলবদলের জল্পনা উস্কে দিচ্ছে ? যদিও সুজয় চক্রবর্তী ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছেন, তবে এনিয়ে জল্পনা বিস্তর। কালীঘাট সূত্রে খবর, এই ব্যাপারে আই-প্যাক সমীক্ষা শুরু করেছে। সংগঠনের স্তরেও সমীক্ষা চলছে। শেষ পর্যন্ত কৌশলের কোনও বদল না ঘটলে মাস খানেকের মধ্যে বেশ কিছু পুরসভায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান বদল করে নতুন মুখ আনা হতে পারে।
লোকসভা ভোটে বাংলায় কমবেশি ৭৪টি পুরসভায় পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। তার মধ্যে কিছু পুরসভায় ফলাফল ছিল খুবই খারাপ। যেমন শিলিগুড়ি পুরসভা। সেখানে পুরসভার ৩৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩২টিতেই পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। তবে এ যাত্রায় ঠিক কতগুলো পুরসভায় চেয়ারম্যান বদল হবে তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সেই সংখ্যাটা ৩০ থেকে ৪০ হতেই পারে। সন্দেহ নেই, পুরসভা স্তরে এই রদবদল তৃণমূলের অন্দরমহল আন্দোলিত করে তুলতে পারে।
