ওঙ্কার বাংলা : কী ধুরন্ধর নেকড়ে। এমন ভাবে জাল ফেলে সমুদ্রে কাঁকড়া ধরছে যেন এক পুরোদস্তুর জেলে। ভিডিওটি সমাজ মাধ্যমে পোস্ট হতেই ভাইরাল। নেকড়ের কায়দাকসরৎ দেখে তাজ্জব বনে যেতে হয়। ঘটনাটি ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মধ্য উপকূলের। একটি স্ত্রী বন্য নেকড়ে সমুদ্র থেকে জাল টেনে কাঁকড়া ধরছিল। দেখে মনে হচ্ছিল বেশ অভিজ্ঞ সে এই কাজে।
কাঁকড়া ধরার জালটি অবশ্য হেইল্টসুক আদিবাসীদের তৈরি। এই জাল দিয়ে কলাম্বিয়ার আদিবাসীরা মূলত সমুদ্রে ইউরোপের সবুজ কাঁকড়া ধরে। কারণ সবুজ কাঁকড়া গাছ ও স্থানীয় প্রাণীদের ক্ষতি করে। ফলে ওই উপকূল এলাকা জুড়ে এইধরণের জাল পাতা থাকে। পরে নজরে আসে যে জালগুলি ছিঁড়ে যাচ্ছে। কারা এই জাল ছিঁড়ছে তা নিয়ে কৌতুহল দেখা দেয়। স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক কলেজ অফ এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ফরেস্ট্রির সহকারী অধ্যাপক এবং একটি নতুন গবেষণার সহ-লেখক কাইল আর্টেল বলেন, “ফাঁদগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছিল, এবং ক্ষতিটা দেখে মনে হচ্ছিল এটি কোনো ভালুক বা নেকড়ে করতে পারে।”
গবেষকরা প্রাথমিকভাবে ধরে নিয়েছিলেন যে গভীর জলের ফাঁদে নেকড়ে বা ভালুক প্রবেশ করতে পারে না কারণ এই প্রাণীরা জলে ডুব দেয় না। দেখা গেছে, কাঁকড়া ধরার কিছু জাল অগভীর জলে পাতা হয়, যেখানে ভালুক বা নেকড়ে সহজেই তাদের কাছে পৌঁছাতে পারে। তবে অন্যান্য জালগুলি গভীর জলে রাখা হয়। এমন কি যখন জোয়ার সবচেয়ে কম থাকে, তখনও তারা জলের নিচে থাকে এবং তাদের কাছে পৌঁছানো সহজ নয়। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল যে এই কাজ কোনো ভালুক বা নেকড়ে করতে পারে না, কারণ তারা জলে ডুব দেয় না। তাহলে, এটি কে হতে পারে ?
কারা এইসব জাল নষ্ট করছে তা জানার জন্য গবেষকরা উপকূল এলাকায় ক্যামেরা বসায়। তাঁরা ভেবেছিলেন, এটি একটি ভোঁদড় বা সীল হতে পারে। কিন্তু ক্যামেরায় ধরা পড়লো একটি নেকড়ে, অবাক করার মতো তার কসরৎ। নেকড়েটিকে দেখা গেল মুখে একটি বয়া নিয়ে সাঁতার কেটে তীরে আসতে। সে বয়াটি বালির উপর ফেলে তার সঙ্গে বাঁধা দড়িটি ধরে কাঁকড়া ধরার জালটিকে টানছে। পরে, নেকড়েটি ওই জাল ডাঙায় তুলে কাঁকড়াগুলিকে খেতে থাকে।
আশ্চর্যের বিষয়, মানুষের মতো নেকড়েটি এই কায়দাকানুন শিখলো কোত্থেকে ! যারা রহস্য অনুসন্ধানে নেমেছিলেন, ঘটনাটি স্পষ্ট হওয়ার পর রীতিমতো অবাক হয়েছেন তাঁরা। এখন গবেষকদের কাছে নেকড়ের মস্তিষ্ক একটা বিষয় হয়ে উঠেছে। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুবিদ্যা এবং বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের এমেরিটাস অধ্যাপক মার্ক বেকফ বলেছেন, ” অন্যান্য নেকড়েরাও দড়ি ব্যবহার করতে জানে কিনা এবং এই আচরণ মানুষের চর্চার সংক্রমন কিনা এটা এখন গবেষণার বিষয়।” আর্টেল বলেছেন, “নেকড়েটি এই কাজ খুবই পারদর্শীতার সঙ্গে করছে মনে হল। জালটি জলের নিচে থাকায় তা দেখা যাচ্ছিল না, তবু জালটিকে যে ভাবে টেনে উপরে আনলো তাতে মনে হচ্ছে এই বিষয়ে সে স্পষ্ট ভাবে ওয়াকিবহাল।”
