ওঙ্কার ডেস্ক: ১৬ জুলাই বস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে ব্রিটিশ রক ব্যান্ড ‘কোল্ডপ্লে’-এর জমজমাট কনসার্ট ছিল এক অবিস্মরণীয় সঙ্গীত-রাত। হাজারো দর্শকের ভিড়, ক্রিস মার্টিনের জাদুকরী গান আর মঞ্চের উচ্ছ্বাসের মাঝেই ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা মার্কিন কর্পোরেট দুনিয়াকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
স্টেডিয়ামের ভিড়ের মধ্যে ‘কিস-ক্যাম’-এর নজর গিয়ে পড়ে
অ্যাস্ট্রোনমারের সিইও অ্যান্ডি বাইরন এবং সংস্থার মানবসম্পদ প্রধান ক্রিস্টিন ক্যাবটের উপর। মুহূর্তের মধ্যেই জায়ান্ট স্ক্রিনে ফুটে ওঠে দু’জনের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত। পিছন থেকে প্রেমিকাকে আলিঙ্গন করেছেন অ্যান্ডি, গানের তালে বুঁদ হয়ে তাঁর বুকে মাথা রেখে দাঁড়িয়ে প্রেমিকা ক্রিস্টিন। দর্শকাসনের হাজারো চোখের সামনে তাদের সেই গোপন রোম্যান্স প্রকাশ পায়। মুহুর্তে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে এক লহমায় ছিটকে সরে যান দু’জনে। অ্যান্ডি মাথা নিচু করে বসে পড়েন, ক্রিস্টিন মুখ ঢেকে ফেলেন হাতে। কনসার্টের মঞ্চ থেকে ব্যান্ডের গায়ক ক্রিস মার্টিন মজা করে মন্তব্য করেন, ‘‘হয় তাঁরা খুব লাজুক, নয়তো তাঁদের অন্য কোনো সম্পর্ক আছে!’’ মঞ্চের এই কথাই মুহূর্তে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।
স্টেডিয়ামের দর্শকাসন ছেড়ে ভাইরাল ভিডিয়ো পৌঁছে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। জানা যায়, অ্যান্ডি এবং ক্রিস্টিন দু’জনেই বিবাহিত এবং তাঁদের জীবনের সঙ্গী ভিন্ন। এর পরেই অ্যান্ডি বাইরনের স্ত্রী মেগান কেরিগান ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘বাইরন’ পদবি মুছে দেন। পরে অ্যাকাউন্টই ডিঅ্যাক্টিভেট করেন তিনি।
তীব্র সমালোচনার মুখে অ্যান্ডি বাইরন ১৮ জুলাই একটি বিবৃতি জারি করে স্ত্রী, পরিবার ও সংস্থার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তবে বিতর্কের জেরে আর পদ আঁকড়ে থাকা সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লিঙ্কডিন পোস্টে অ্যাস্ট্রোনমারের তরফে জানানো হয় অ্যান্ডির পদত্যাগের কথা। সংস্থার পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়, ‘‘সংস্থার শুরু থেকেই আমরা আমাদের মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিকে অগ্রাধিকার দিই। আমাদের কর্মীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত আচরণেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হয়। সম্প্রতি সেই মান লঙ্ঘিত হয়েছে।’’ আপাতত সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ প্রোডাক্ট অফিসার পিট ডিজয় অন্তর্বর্তীকালীন সিইও হিসাবে দায়িত্ব সামলাবেন বলে ঘোষণা করেছে সংস্থা।
১৯৭৫ সালে ম্যাসাচুসেটসে জন্ম অ্যান্ডি বাইরনের। প্রভিডেন্স কলেজে পড়াকালীনই প্রযুক্তি ও ব্যবসার প্রতি আগ্রহ জন্মায় তাঁর। ভেরি সেন্টার, বিএমসি সফটওয়্যার, ব্লেডলজিক বিভিন্ন সংস্থায় কাজের সুবাদে গড়ে ওঠে তাঁর পেশাগত প্রোফাইল। ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সাইবারিজনের চিফ রেভিনিউ অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করে সংস্থার মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০ লক্ষ ডলার থেকে ৭ কোটি ডলারে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত লেসওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, পরে উপদেষ্টা হিসেবেও যুক্ত ছিলেন ওই সংস্থার সঙ্গে। ২০২৩ সালে অ্যাস্ট্রোনমারের সিইও হিসাবে যোগ দিয়ে সংস্থার আর্থিক অবস্থার রঙ বদলে দেন অ্যান্ডি। সিইও হিসাবে সংস্থার ইকুইটির ১-৫ শতাংশ লভ্যাংশের মালিক ছিলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ডলার থেকে ৭ কোটি ডলারের মধ্যে।
অন্যদিকে ক্রিস্টিন ক্যাবট সংস্থার ‘চিফ পিপ্ল অফিসার’। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি অ্যাস্ট্রোনমারে যোগ দেন। আগে একাধিক সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও চর্চা কম হয়নি ২০১৮ সালে স্বামী কেনেথ সি. থর্নবির সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা হয়, যা শেষ হয় ২০২২ সালে।
যদিও অ্যান্ডি ও ক্রিস্টিন দু’জনের কেউই এই সম্পর্ক নিয়ে মুখ খোলেননি। বিবাহবিচ্ছেদ নিয়েও অ্যান্ডির পরিবার কোনও মন্তব্য করেনি। অ্যাস্ট্রোনমার জানিয়েছে, পণ্যের মান ও গ্রাহক পরিষেবায় কোনও প্রভাব পড়বে না।
