ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে আমেরিকার উদ্দেশে স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা দিল ইরান। তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, সংঘাত বাড়ানো হবে নাকি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান খোঁজা হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখন সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের হাতে। ইরানের ডেপুটি বিদেশমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদির বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ নয়, বরং আলোচনাই হতে পারে স্থিতিশীলতার একমাত্র পথ। তবে আমেরিকা যদি আগ্রাসী নীতি বজায় রাখে, তাহলে ইরানও তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
ইরানের তরফে পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই বার্তায় দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা প্রশমনের প্রস্তাবের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার ইঙ্গিত রয়েছে। যদিও ইরান স্পষ্ট করেছে, তাদের সার্বভৌমত্ব, প্রতিরক্ষা নীতি এবং কৌশলগত অবস্থানের ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস মেনে নেওয়া হবে না।
তেহরানের বক্তব্যে স্পষ্ট, তারা সরাসরি যুদ্ধ চায় না, কিন্তু চাপিয়ে দেওয়া সংঘাতের জবাব দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। ফলে আমেরিকার ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অবস্থানই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, তেল পরিবহণ, আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য এবং পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক এমন এক জটিল অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো বার্তা মূলত পরিস্থিতি শান্ত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যেখানে ইরান একদিকে নিজেদের আলোচনাপ্রবণ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতির বার্তাও স্পষ্ট রাখছে। এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের নজর আমেরিকার প্রতিক্রিয়ার দিকে। ওয়াশিংটন যদি আলোচনার পথে এগোয়, তাহলে নতুন করে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, কঠোর অবস্থান বজায় থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হবে।