ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতের আবহে সমুদ্রপথেও উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা-র ডুবে যাওয়ার ঘটনার পর ভারত মহাসাগর অঞ্চলে আবারও ইরানের আরেকটি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা সম্প্রতি একটি হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ডুবে যায়। ওই ঘটনার পরপরই তেহরান কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলে। এই পরিস্থিতিতেই ইরানের আরেকটি যুদ্ধজাহাজ ভারত মহাসাগরের দিকে অগ্রসর হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নৌ-সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন করে যে যুদ্ধজাহাজটি এই অঞ্চলে পৌঁছেছে, সেটিতে বহু নাবিক রয়েছে এবং সেটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছে। ইরানের তরফে এই পদক্ষেপকে প্রতিরক্ষামূলক এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ বলেই দাবি করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ সমুদ্রপথে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগেই ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড়সড় কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। ইরান দাবি করে, তাদের জাহাজের উপর আকস্মিক হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় বহু নাবিকের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে আসে, যা ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
এই পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগরে ইরানের দ্বিতীয় যুদ্ধজাহাজের আগমনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ রয়েছে। ফলে এখানে যে কোনও ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা সংঘাত বিশ্ব বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগর সংলগ্ন দেশগুলির জন্য এই উত্তেজনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। কূটনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, যদি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, তাহলে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমুদ্রপথে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক শক্তিগুলির মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হতে পারে।
