ওঙ্কার ডেস্ক: নাবালিকাকে টিউশন পড়াতেন। তার সুযোগ নিয়ে ১১ বছর আগে ওই কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন শিক্ষক। সেই অভিযুক্ত শিক্ষককে পাকড়াও করে পুলিশ আদালতে তুললে তাঁকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। সেই সঙ্গে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে দোষী ব্যক্তিকে। ঘটনাটি কেরলের।
রিপোর্ট অনুসারে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বয়স ৫৭ বছর। ২০১৩ সালে নাবালিকা যখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ত, তখন অভিযুক্তের কাছে টিউশন পড়ত সে। অভিযোগ, সেই সময় তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতেও ওই নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন করা হয়। যখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ত, ওই নাবালিকা তখন অভিযুক্তের কাছে পড়তে যাওয়া বন্ধ করে দেয় নির্যাতিতা। কিন্তু টিউশন শিক্ষকের হুমকির কারণে নির্যাতিতা ঘটনার কথা কাউকে জানায়নি। এমনকি সেই ঘটনার কারণে মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকে সে। উচ্চমাধ্যমিক পড়াকালীন এক বছর নষ্টও হয় তার। মানসিক অবসাদ যখন ক্রমশ বাড়তে থাকে তখন। তার পরিবার একজন মনোবিদকে দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কোভিড-১৯ চলাকালীন অনলাইনে চিকিৎসা নেয় নির্যাতিতা। মনোবিদের পরামর্শে ওষুধ খেয়ে অসুস্থতা কমে যায়। সে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয় এবং হোস্টেলে থাকতে শুরু করে। ২০২৪ সালে, নির্যাতিতা টিউশন শিক্ষকের মতো দেখতে এক ব্যক্তিকে দেখেন। তার পর তার স্মৃতিতে পূর্বের হেনস্থার ঘটনা ফুটে ওঠে। সেই সঙ্গে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যায়। পরে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং তখনই অতীতের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। ডাক্তার পুলিশকে জানালে তদন্তকারীরা অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
তিরুবনন্তপুরম ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্টের বিচারক অঞ্জু মীরা বিড়লা ৫৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং পকসো আইনে মোট ১৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে, যেহেতু সাজা একসঙ্গে ভোগ করতে হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর, তাই দোষী ব্যক্তি কেবল ৫ বছরের জন্য জেলে থাকবেন।
