
নিজস্ব সংবাদকতা : সাইবার ক্রাইমে বিরাট সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশ। তাদের হাতে ধরা পড়ল কলকাতায় ডিজিটাল অ্যারেস্ট চক্রের দুই পাণ্ডা। চিরাগ কপূর ও যোগেশ দুয়া নামে দুই অভিযুক্তকে শুক্রবার নিজেদের হেফাজতে নেয় এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট। যদিও বিশেষ অভিযানে নেমে তাঁদের আগেই গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে রয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি প্রতারণা করার অভিযোগ। এই বিষয়ে গল্ফগ্রিনের বাসিন্দা এক মহিলার অভিযোগ করেন কলকাতা পুলিশের কাছে। সেই ভিত্তিতে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণার তদন্ত শুরু করেছিল কলকাতা পুলিশের সাইবার বিভাগ। শুক্রবার কলকাতা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে তারা। পরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এসে গ্রেফতার করে ওই দুজনকে।
সূত্রের খবর, অভিযোগকারী ওই মহিলা ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে খুইয়েছিলেন ৪৭ লক্ষ টাকা। সেই তদন্তে নেমেই কলকাতা পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায়। তল্লাশি করে ২০২৪ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর ৬১টি মোবাইল, ৩৩টি এটিএম কার্ড, ১০৪টি পাস বুক, দু’টি কিউআর কোড মেশিন, ১৪০টি সিম কার্ড, ৪০টি স্ট্যাম্প ও ১০টি চুক্তিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছিল। গ্রেফতার করা হয়েছিল মোট আট জনকে।
বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করা হয় চিরাগকে। ওঁকে জেরা করা হলে , দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয় ওঙ্কার সিংহ নামে আরও এক জনকে। ওদের দেওয়া বয়ান থেকেই নাম উঠে এসেছিল যোগেশ ও আদিত্য দুয়ার। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি যোগেশকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যোগেশের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছিল, দু’টি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ,একটি হার্ড ডিস্ক, আটটি চেক বুক, আটটি এটিএম কার্ড, এক লক্ষ ৮৬ হাজার ৮৯০ টাকা, একাধিক আধার কার্ড, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও একাধিক চুক্তিপত্র।
ক্রমবর্ধমান অনলাইন জালিয়াতি এবং সাইবার ক্রাইমকে নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে পুলিশের এক সাফল্যের পদক্ষেপ এই দুই অভিযুক্তের গ্রেফতার।
কিন্তু প্রশ্ন আর কতো জন রয়েছে এই চক্রে। কতোগুলো জায়গা থেকেই বা পরিচালিত হয় এই অনলাইন জালিয়াতি। একের পর এক ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে ডিজিটাল ভারতবর্ষে কতটা ডিজিটালি নিরাপদ সাধারণ মানুষ !