ওঙ্কার ডেস্ক: গত ২২ আগস্ট কলকাতার তিনটি মেট্রোরুট উদ্বোধন করে গেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাতে আশা করা হয়েছিল শহরের নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমবে। কিন্তু তারপর থেকেই অফিসযাত্রী থেকে সাধারন মানুষদের দুর্ভোগের মাত্রা আরও বেরেছে বই কমেনি। আবার পুজোর আগে কলকাতার ব্লু লাইন মেট্রোতে একধাক্কায় কমিয়ে নেওয়া হবে ৩২টি ট্রেন, এমনটাই জানিয়েছে কলকাতা মেট্রো।
দক্ষিনেশ্বর থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত কলকাতার ব্লু লাইন মেট্রো চলাচল করে। রক্ষণাবেক্ষণ জনিত কারনে কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকবে প্রায় এক বছর। তাই ব্লু লাইন মেট্রোতে দক্ষিনেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত ট্রেন চলছে। এর মধ্যে আবার দক্ষিনেশ্বর থেকে আগত ৩২টি টেন মহানায়ক উত্তমকুমার (টলিগঞ্জ এলাকা) স্টেশন থেকে আর শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনের দিকে যাবে না। টলিগঞ্জ থেকেই সেই ট্রেন গুলিকে ঘুরে যাবে আবার দক্ষিনেশ্বরের দিকে। আর এতেই নিত্য যাত্রীদের চরম সমস্যার মধ্যে পরতে হবে বলে আশঙ্কা।
মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, সীমিত সংখ্যক রেক থাকায় পরিষেবায় কাটছাঁট করা ছাড়া উপায় ছিল না। বর্তমানে ইস্ট–ওয়েস্ট ও উত্তর–দক্ষিণ করিডর মিলিয়ে হাতে আছে মাত্র ২৮টি রেক। এই সামান্য সংখ্যক ট্রেন দিয়েই দিনভর যাত্রী চাপ সামলাতে হচ্ছে। সম্প্রতি বন্দরে এসে পৌঁছেছে আরও কিছু ডালিয়ান কোচ, তবে সেগুলির ট্রায়াল রান না হওয়ায় পরিষেবায় নামানো সম্ভব হয়নি। কবে তা হবে, তা নিয়েও স্পষ্ট কোনও তথ্য নেই।
এদিকে যাত্রীদের বড় অংশের প্রশ্ন “দুর্ভোগ কমানোর নাম করে কি উল্টে আরও সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে না?” বিশেষত পুজোর মরশুমে, যখন ভিড় চরমে পৌঁছায়, তখন পরিষেবায় কাটছাঁট সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়িয়েছে। দক্ষিণ থেকে উত্তর শহরে যাতায়াতকারীদের আশঙ্কা, টালিগঞ্জে ট্রেন ঘুরিয়ে দেওয়া হলে চাপ আরও দ্বিগুণ হবে।
যদিও মেট্রো আধিকারিকদের আশ্বাস, পরিষেবা কমলেও ট্রেন চলবে নির্দিষ্ট ব্যবধানে। ব্যস্ত সময়ে প্রতি ৫ মিনিট অন্তর এবং অন্যান্য সময়ে প্রতি ৭ মিনিট অন্তর ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের মতে, এই ব্যবস্থা মেট্রোর উপর কিছুটা হলেও চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
তবুও প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে পুজোর সময় বিপুল যাত্রী ভিড় সামলাতে কি সত্যিই সক্ষম হবে মেট্রো? নতুন রেক কবে নামবে লাইনে? আর যাত্রী দুর্ভোগ কি আরও বাড়বে? শহরের হাজারো মানুষ এখন সেই উত্তরেই চোখ রেখে আছে।
