ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যে চলতে থাকা সংঘাত ক্রমশ আরও বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশ সরাসরি হামলার মুখে পড়েছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই হামলায় বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণাগারের একটি অংশে আঘাত লাগে। ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর চত্বরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তা বাহিনী।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ড্রোন হামলার ফলে বিমানবন্দরের কিছু অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। যদিও বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও ঘটনাটি নিয়ে কুয়েত প্রশাসনের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রমে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটে এবং গোটা এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়।
অন্যদিকে সৌদি আরবের আকাশসীমাতেও একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং আকাশেই অন্তত ১৫টি ড্রোন ধ্বংস করে দেয়। একই সঙ্গে রিয়াদের কাছাকাছি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও মাঝ আকাশে প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সৌদি প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তাদের আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় রাজধানী রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক এলাকায় সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইজরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপট। ওই অভিযানে ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়। তার পর থেকেই ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান এই সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশের আকাশসীমায় নিরাপত্তা সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে, অনেক জায়গায় বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। তেল উৎপাদন ও পরিবহনের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বানও ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠছে।
