ওঙ্কার ডেস্ক: মানুষের মস্তিষ্ক কতজনকে ‘সম্পর্ক’ হিসেবে ধরে রাখতে সক্ষম সেনিয়ে সম্প্রতি এক গবেষণায় সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষমতা সীমিত। সর্বাধিক ১৫০ জন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা সম্ভব, তার বেশি নয়। এই তত্ত্বটি মূলত ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানী রবিন ডানবারের প্রবর্তিত “ডানবার সংখ্যা” নামে পরিচিত।
গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষের মস্তিষ্কের ন্যুম্যাটোক্স অংশ সামাজিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে। এই অংশই ঠিক করে দেয় আমরা কতজনকে ঘনিষ্ঠ বা পরিচিত মানুষ হিসেবে মনে রাখতে পারব, তাঁদের সঙ্গে কতটা সময় ও আবেগ ভাগ করে নিতে পারব। ডানবারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একজন মানুষ প্রায় ১৫০ জনের সঙ্গে এমনভাবে যোগাযোগ রাখতে পারে, যাতে পরস্পরের প্রতি ন্যূনতম সামাজিক বোঝাপড়া ও সংযোগ বজায় থাকে। এর মধ্যে প্রায় পাঁচজনের সঙ্গে গভীর বন্ধন তৈরি হয়, যাঁদের সঙ্গে আমরা সবচেয়ে বেশি সময় কাটাই, মন খুলে কথা বলি এবং আবেগ ভাগ করি। পরবর্তী স্তরে থাকে প্রায় দশ থেকে পনেরো জন মানুষ, যাঁদের সঙ্গে মাসে একবার দেখা বা কথা হয়। এরপর একটি বড় বৃত্তে যুক্ত থাকেন প্রায় পঞ্চাশজন পরিচিত, যাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে কম ঘনিষ্ঠ হলেও সামাজিক যোগাযোগের পরিধিতে তাঁরা রয়ে যান।
এই ১৫০ জনের বাইরে প্রায় তিনশো থেকে তিনশো পঞ্চাশ জন পর্যন্ত এমন মানুষ থাকতে পারেন, যাঁদের আমরা চিনি কিন্তু তাঁদের সঙ্গে কোনও আবেগগত সংযোগ তৈরি হয় না। আবার প্রায় হাজারজন পর্যন্ত এমন মানুষ থাকতে পারেন, যাঁদের আমরা মুখ বা নাম দেখে চিনতে পারি, কিন্তু তাঁরা আমাদের চেনেন না। গবেষকরা বলছেন, এই সংখ্যাগুলি মানুষের সামাজিক বৃত্তের গঠনকে ব্যাখ্যা করে।
তবে বর্তমান যুগে সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার এই পরিসংখ্যানকে বদলে দিতে পারে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আজকের ডিজিটাল যুগে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা এক্স-এর মতো সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে মানুষ শত শত, এমনকি হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকে। কিন্তু গবেষকদের মতে, এই ভার্চুয়াল সংযোগ প্রকৃত সম্পর্ক নয়। মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে এত সংখ্যক মানুষের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধন গড়তে পারে না। তাই বাস্তব সম্পর্কের সীমা এখনও সেই ১৫০ জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক সম্পর্কের এই সীমা আমাদের সময়, মনোযোগ ও আবেগের উপর নির্ভরশীল। যতই প্রযুক্তি উন্নত হোক না কেন, মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষমতা তার নিজস্ব সীমা অতিক্রম করতে পারে না। এই গবেষণা তাই আবারও প্রমাণ করে, মানুষের সামাজিক বৃত্ত যতই বিস্তৃত হোক না কেন, প্রকৃত সম্পর্কের সংখ্যা সবসময় সীমিতই থেকে যায়।
