ওঙ্কার ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর দাবি, একজন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন।
উত্তরবঙ্গে আদিবাসী সম্প্রদায়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনের অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন হওয়ায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তাঁর কথায়, আগে যে জায়গায় অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল তা হঠাৎ করেই বদলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিতির সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম ছিল এবং রাজ্য সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি তিনি এ কথাও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উপর কোনও কারণে অসন্তুষ্ট কি না, সেটিও তাঁর জানা নেই।
রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের রাষ্ট্রপতির মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সরকারের দায়িত্ব। সেই মর্যাদাকে অমর্যাদা করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাঁর মতে, এই ঘটনায় আদিবাসী সমাজের সাংস্কৃতিক মর্যাদাকেও যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি।
এই ইস্যুতে বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিকে ঘিরে প্রোটোকল এবং সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক থেকে এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেই মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। দলের নেতৃত্বের দাবি, বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাড়িয়ে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রের শাসক দল ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করার জন্য এই ঘটনাকে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির মন্তব্য ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাজ্যে রাজনৈতিক আবহ উত্তপ্ত থাকায় এই ঘটনা আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নিতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
