
স্পোর্টস ডেস্ক :ফুটবল জীবনের শেষে তিনি স্কটল্যান্ডে ফিরে গিয়ে বন্ধুবান্ধ-আত্মীয়স্বজনদের গর্ব করে বলতে পারবেন তাঁর ভারত-অভিযানের কথা। ২০২১ থেকে ভারতে খেলছেন স্কটিশ মিডফিল্ডার গ্রেগ স্টুয়ার্ট। চার বছর হয়ে গেল ভারতে আছেন। এই চার বছরে দু’বার আইএসএলে সেরার শিরোপা জেতা হয়ে গিয়েছে তাঁর। একবার জামশেদপুর এফসি-র সঙ্গে ও পরের বার মুম্বই সিটি এফসি-র সঙ্গে। এ বার তিনি মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট দলের সঙ্গেও শিল্ড খেতাব জিতলেন। এমন গর্বের কথা ক’জনই বা বলতে পারেন! শুধু গ্রেগই পারেন।
তবে তিনবার আইএসএলের শিল্ড জয়ের পর এ বার তাঁর লক্ষ্য কাপও জিতে একই মরশুমে মুকুটে জোড়া পালক যুক্ত করা। সেই দিকেই এখন তাকিয়ে ৩৫ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এবং ফরোয়ার্ড। বলছেন, প্রায় সাড়ে তিন সপ্তাহের অবকাশের পর তাঁরা পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে তা সম্ভব হতেই পারে।
জামশেদপুরে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে নামার আগে দুই গোল ও পাঁচ অ্যাসিস্টের মালিক গ্রেগ সাংবাদিকদের বলেন, “লিগের শেষ ম্যাচের পর আমরা বিশ্রামে ছিলাম ঠিকই। তবে গত দু’সপ্তাহ ধরে আমরা টানা অনুশীলন করেছি এবং প্লে অফের গণ্ডী পেরিয়ে কাপ জেতার জন্য আমরা এখন তৈরি”।
তিনবার আইএসএল খেতাব জয়ের মধ্যে কোনটা জানতে চাওয়া হলে গ্রেগ বলেন, “এটা বেছে নেওয়া খুব মুশকিল। ফুটবলে সফল হওয়া মোটেই সোজা না। কেরিয়ার দীর্ঘ হলেও জেতার সুযোগ কমই পাওয়া যায়। প্রত্যেকটাই উপভোগ করেছি। তবে জামশেদপুরের সঙ্গে লিগ জেতাটা সত্যিই কঠিন ছিল। মুম্বইয়ের দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে যদি ওই দলের খেলোয়াড়দের তুলনা করেন, তা হলে এটাই বলতে হয়। আমার তো মনে হয়, আমাদের সাফল্য দেখে অনেকে চমকে গিয়েছিল”।
তবে কখনও শিল্ড ও কাপ একসঙ্গে জেতার সৌভাগ্য হয়নি তাঁর। এ বার সেটাই লক্ষ্য, জানিয়ে দেন স্কটিশ তারকা। বলেন, “এখন পর্যন্ত দুটো একসঙ্গে জেতার সৌভাগ্য হয়নি। জিততে পারলে তো দারুণ হবে। ইতিহাসের পাতায় জায়গা পেতে কার না ভাল লাগে। প্রথমবার যদি এটা করতে পারি, তা হলে তো ভাল লাগবেই। যাই করি, দল হিসেবে করতে চাই আমরা। সমর্থকদের জন্য করতে চাই। তবে আগামী ম্যাচগুলো যে বেশ কঠিন হতে চলেছে, তা আমরা খুব ভাল করেই জানি।”
আইএসএলে প্রথম খেতাব জিতেছিলেন জামশেদপুর এফসি-র সঙ্গেই। সেই জামশেদপুরকে হারিয়েই এ বার ফাইনালে ওঠার চ্যালেঞ্জ তাঁর বর্তমান দল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের। যোগাযোগ একটা থাকলেও তাতে কোনও আবেগের সম্পর্ক নেই বলেই জানালেন গ্রেগ। বরং প্রশংসা করলেন জামশেদপুরের বর্তমান দলটির। বলেন, “সেই সময়টা ভালই কেটেছিল। দারুন একটা অনুভূতি ছিল। ওই ক্লাবে অনেক ভাল ভাল লোকেরা কাজ করেন। এ বার তারাই আমাদের বিপক্ষে। আমাদের কাছে ওরা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। ওদের সমীহ করতেই হবে। এই মরশুমে ওরা ভাল খেলেছে। ওদের কয়েকজন ভাল খেলোয়াড় আছে। তবে আমাদের নিজেদের খেলায় মনোনিবেশ করতে হবে”।