শুক্লা মাইতি
কলকাতা থেকে গ্রেফতার নাশকতার বড় ষড়যন্ত্রী জঙ্গি ওমর ফারুক এবং হাবিবুর । জানা যাচ্ছে, জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ওমরের। রবিবার কলকাতা পুলিশের সহযোগিতায় দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ভারতে বসে পাক সন্ত্রাসবাদী এক চক্রের পর্দা ফাঁস করলো। ধৃতরা পাক গোয়েন্দা সংস্থা, আইএসআই এবং বাংলাদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি মডিউলার চালাতো বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল।
কলকাতায় কাজ করতেন ওমর। এই সাধারণ পরিচয়ের পিছনেই ছিল আসল চেহারা। বহু দিন ধরেই CISF এর নজরে ছিলেন ওমর। বড়সড় হামলার ছক করছিলেন ওমররা, তার সঙ্গে কলকাতার ফ্ল্যাটে ছিল আরও ৭ জন। কলকাতাতেই একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে জঙ্গি সংগঠনের কাজ করতেন তারা। অভিযোগ, মালদার এই যুবকের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা খ্যাত সাবির আহমেদ লোনের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। ভারত বাংলাদেশ এবং তামিলনাড়ুর একাধিক হ্যান্ডেলারদের একসঙ্গে এনে তাদের জাল পরিচয়পত্র এবং যাবতীয় প্রয়োজন অপ্রয়োজনের ব্যবস্থা করে, জঙ্গি মডিউল এর মাধ্যমে অপারেশন চালানোই ছিল এদের কাজ। গত ৭ ফেব্রুয়ারি দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশনে দেশবিরধী কিছু পোস্টার মারতে দেখা যায় ওমর এবং তার সহযোগীদের। তখন থেকেই দিল্লি পুলিশের নজরে আসে। কলকাতায় এসে এই বিশাল নাশকতার ছক জানতে পারে CISF আধিকারিকরা। তার পরেই কলকাতায় গ্রেফতার করা হয় ওমর ফারুক এবং হাবিবুরকে।
দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত সিপি প্রমোদ সিং কুশওয়াহ বলেন, জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা খ্যাত সাবির আহমেদ লোনের পরামর্শেই কাজ করছিল ওমর সহ এই ৭ জন। তিনি আরও বলেন তাদের সুত্রের খবর বর্তমানে বাংলাদেশ থেকেই জঙ্গি সংগঠনের কাজ পরিচালনা করেন সাবির আহমেদ লোন। তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ ছিল গ্রফতার হওয়া ভারতীয় ওমর ফারুক এবং বাংলাদেশী হাবিবুরের।
উল্লেখ্য, মালদার মানিকচক থানার গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অশিনটোলা গ্রামের বাসিন্দা উমর ফারুক। সপ্তম শ্রেণী পাস এই যুবক। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কলকাতায় শ্রমিকের কাজ করতে বলে পরিবারের দাবি। তবে পরিবারের বক্তব্য নিয়ে রয়েছে বিভ্রান্তি। অশিক্ষিত ছেলে বুঝতে না পেরে টাকার বিনিময়ে পোস্টার লাগিয়েছে দাবি মায়ের।
যদিও এইসব মানতে নারাজ তার স্ত্রী। স্ত্রীর দাবি তার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে। তার স্বামী বরাবরই বাইরে কাজ করে। কিন্তু তিনি সন্দেহ জনক কিছু দেখেননি। তার স্বামী উগ্রপন্থী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত নেই। তার বাবার বক্তব্য এতদিন আমি শ্রমিকের কাজ করেছি। ছেলে বাড়িতেই থাকতো। এবারই সে প্রথম কাজ করতে গেছিল। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের বক্তব্যই রয়েছে বিভ্রান্তি।
৮ সদস্যের মডিউলের ‘মাথা’ মালদহের উমর ফারুক! কী ভাবে যোগাযোগ হয়েছিল কাশ্মীরের জঙ্গি সাবিরের সঙ্গে? যদিও এই ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং ছেলের মুক্তির দাবী করেছে তার পরিবার। যদিও যতো সময় যাচ্ছে এই ঘটনার জাল বিস্তারিত হচ্ছে। এখন দেখার আরও কী কী তথ্য সামনে আসে CISF এর তদন্তে নাকি পরিবারের দাবী সঠিক , ফাঁসানো হয়েছে ওমরকে । দেখার ওমর কী একটা বড়ো চক্রের শুধুই একটা দাবার ঘুটি তার পিছনে রয়েছে আরও বড়ো কোন মাথা।
