ওঙ্কার ডেস্ক : কানাডায় পড়তে যাওয়া মধ্যপ্রদেশের এক ভারতীয় ছাত্রকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তারই সহপাঠীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামনে আসতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারের পাশাপাশি প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেও। বিদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর বাসিন্দা গুরকিরাত সিং মানোচা উচ্চশিক্ষার জন্য কিছুদিন আগে কানাডায় পাড়ি দেন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের ফোর্ট সেন্ট জন শহরের একটি কলেজে ব্যবসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে বিদেশে পড়তে গিয়েছিলেন গুরকিরাত। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের খরচ চালাতে একটি সুপারমার্কেটে খণ্ডকালীন কাজও করতেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে কলেজের কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে তার বিবাদ চলছিল। সেই বিবাদের জেরেই পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ওই বিবাদই ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনে। জানা গিয়েছে, এক রাতে কয়েকজন যুবক মিলে তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার পর একটি গাড়ি দিয়ে তাকে চাপা দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে পারেননি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই কানাডার স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। কারা এই হামলায় জড়িত এবং কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর প্রথমে পরিবারের কাছে পৌঁছায় কানাডায় থাকা গুরকিরাতের এক বন্ধুর মাধ্যমে। গভীর রাতে ফোন পেয়ে হতবাক হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। ছেলের মৃত্যুসংবাদে ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন। পরিবারের দাবি, অত্যন্ত মেধাবী এবং শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল গুরকিরাত। ভবিষ্যতে বড় কিছু করার স্বপ্ন নিয়েই সে বিদেশে পড়তে গিয়েছিল।
এখন পরিবারের একটাই দাবি, দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি তারা চাইছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গুরকিরাতের মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক যাতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়। এ বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং কানাডায় ভারতীয় দূতাবাসের কাছেও সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তারা।
