ওঙ্কার ডেস্ক: বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া ব্লক’ কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের লক্ষ্যে সংসদে পদক্ষেপ নেওয়ার ভাবনা চিন্তা শুরু করেছে। সম্প্রতি জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা নিয়ে যে বিভিন্ন অভিযোগ উঠছে, তার প্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সংসদে অপসারণ প্রস্তাব আনা যেতে পারে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বিশেষত ভোটার তালিকার বিশেষ পুনর্বিবেচনা পর্বে একাধিক অনিয়ম ঘিরে কমিশন যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি, বরং অভিযোগগুলিকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে।
ইন্ডিয়া ব্লকের নেতারা দাবি করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে ভোট নিয়ে উঠছে ‘ভোট চুরি’, ‘ভোটার তালিকা বিকৃতি’, এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই সব অভিযোগের তদন্তে কমিশন কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। জ্ঞানেশ কুমারের মন্তব্য ও পদক্ষেপ কমিশনের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলছে বলেও বিরোধীদের দাবি। তাঁদের মতে, নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা নষ্ট করছে।
তবে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অপসারণের মতোই কঠোর। সংসদের দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন ছাড়া এমন প্রস্তাব পাস করানো সম্ভব নয়। এছাড়া অপসারণের ক্ষেত্রে প্রমাণিত দুর্ব্যবহার বা অক্ষমতার নির্ভরযোগ্য ভিত্তি থাকতে হয়। বিরোধীদের এই পদক্ষেপ তাই রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, কমিশন সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে এবং ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে অভিযোগ নিষ্পত্তি সব ক্ষেত্রেই নিয়ম মেনে কাজ চলছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, রাজনৈতিক দলগুলোর চাপ নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন কর্তৃত্বকে ক্ষুণ্ণ করছে এবং নির্বাচন পরিচালনার মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়াকে অযথা বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে।
