ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ‘অপারেশন সিঁন্দুর’ এ ১৫০ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে ইসলামাবাদের এক জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম ‘সামা টিভি’ র অফিসিয়াল পোর্টালে। পাকিস্তানি সেনাদের নামের আগে শহিদ ও মরনোত্তর সম্মানেরও উল্লেখ করে সেই প্রতিবেদনটিতে। কিন্তু সেই প্রতিবেদন ভাইরাল হতেই ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলা হয় লেখাটি। আসলেই কি অপারেশন সিঁন্দুরের আসল তথ্য প্রকাশ্যে এলে অস্বস্তিতে পরবেন ইসলামাবাদের উচ্চ আধিকারিকরা।
পাকিস্তানের অত্যান্ত জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম ‘সানা টিভি’ –এর পোর্টালে পাকিস্তানের ‘অপারেশন বুনিয়ানুন’ –এ নিহত সেনা দের সম্মান জানানোর জন্য ঐ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে নিহত পাক সেনাদের নামের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্থলসেনা, বিমানবাহিনী এবং অন্যান্য সামরিক কর্মীদের মধ্যে মোট ১৫৫ জনের নাম তালিকাভুক্ত ছিল। প্রতিটি নামের পাশে লেখা ছিল ‘শহিদ’, যা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এরা সকলে প্রাণ দিয়েছেন ভারতের বিরুদ্ধে অভিযানে। যদিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তালিকায় ১৪৬ জন শহিদের নাম পাওয়া গিয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শহিদ সেনাদের মধ্যে প্রত্যেককে মরণোত্তর ‘ইমতিয়াজি সনদ’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৫ জনকে ‘তমঘা-ই-বাসালাত’ পুরস্কার প্রদান করেছে ইসলামাবাদ। মাত্র চার জন সেনা পেয়েছেন ‘তমঘা-ই-জুরাত’, যা ভারতের ‘বীর চক্র’-এর সমতুল্য। এর পাশাপাশি একজন পাক সেনাকে দেওয়া হয়েছে মরণোত্তর ‘সিতারা-ই-বাসালাত’, পাকিস্তানের অন্যতম শীর্ষ বীরত্ব সম্মান। কিন্তু প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। আর এতেই রাজনৈতিক চাপের জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের উল্লেখযোগ্য পর্যটক এরিয়া, পেহেলগামে পাক মদত পুষ্ট জঙ্গী সংঘঠন ‘লস্কর-ই-তৈবা’ হামলা চালায়। সেই হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন ভারতীয় পর্যটক। পেহেলগাম হামলার প্রতিবাদেই ভারতীয় সেনা চালায় ‘অপারেশন সিঁন্দুর’। ভারতীয় সেনা বাহিনীর হামলায় ধূলিসাৎ হয়ে যায় পাকিস্তানের ৯ টি জঙ্গীঘাঁটি। এরপর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীও সরাসরি ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। অপারেশন সিঁন্দুরের বিপরীতে পাকিস্তান বাহিনী শুরু করে ‘অপারেশন বুনিয়ানুন মারসুম’।
‘অপারেশন বুনিয়ানুন মারসুম’-এর সূচনাতেই পাকিস্তান ড্রোন হামলার চেষ্টা করে। কিন্তু ভারতীয় সেনার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সমস্ত ড্রোন শূন্যে ধ্বংস করে দেয়। পরে পাক বিমানবাহিনী লড়াকু জেট নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। ভারতীয় বাহিনী রাশিয়ার তৈরি ‘এস-৪০০’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে একাধিক পাক যুদ্ধবিমান নামিয়ে আনে। এরপর ভারতের পাল্টা আঘাত হয় আরও ভয়াবহ। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি ‘ব্রহ্মস’ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ভারতীয় বিমানবাহিনী চোখের পলকে গুঁড়িয়ে দেয় চকলালা নুর খান, রফিকি, মুরিদকে, পসরুর এবং সিয়ালকোটের পাক বিমানঘাঁটি। শুধু তাই নয়, সুক্কুর এবং চুনিয়ার স্থলসেনার ঘাঁটিও ধ্বংস হয়। ৮ ও ৯ মে রাতে বিমানবাহিনীর অভিযানেই পাকিস্তানের ২০ শতাংশ বায়ুসেনা অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়।
ভারতীয় বাহিনীর ভয়াবহ আঘাতের পর বাধ্য হয়ে ১০ মে সন্ধ্যায় পাকিস্তানের ডিজিএমও তাঁর ভারতীয় সমপদমর্যাদার অফিসারকে ফোন করেন এবং সংঘর্ষবিরতির আবেদন জানান। এর পরই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়।
পাকিস্তানের আইএসপিআর (ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স) দাবি করেছে, ভারতের হামলায় মাত্র ১০-১২ জন পাক সেনা নিহত হয়েছেন। তবে ভারতের ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ওই অভিযানে নয়টি জঙ্গিঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ১০০-রও বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ইউসূফ আজহার, আব্দুল মালিক রাউফ ও মুদস্সর আহমেদের মতো কুখ্যাত জঙ্গি ছিল। পুলওয়ামা হামলা এবং আইসি ৮১৪ অপহরণের সঙ্গেও তাদের যোগসূত্র ছিল বলে ভারতীয় সেনার দাবি।
এমন ভয়াবহ ক্ষতির পরও পাকিস্তান সেনার ভেতরে পুরস্কার ও পদোন্নতির ধারা অব্যাহত থাকে। গত ২০ মে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ‘ফিল্ড মার্শাল’-এর পদে উন্নীত করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার। এরপর নিজেকে ‘হিলাল-ই-জুরাত’সম্মানেও ভূষিত করেন মুনির।
