বিপ্লব দাশ : আর জি করের বিভীষিকাময় কাণ্ডের বছর পূর্ণ হল। ২০২৪-এর ৮ আগস্ট গভীর রাতে আর জি করের পড়ুয়া মহিলা ডাক্তার, আইনি বিধি নিষেধে যাকে অভয়া বা তিলোত্তমা নামে সবাই জানি তা যেন আজও কাঁটার মতো লেগে আছে বাঙালির জনজীবনে। এই ঘটনায় টলে উঠেছিল গোটা বিশ্ব, স্বাধীনোত্তর ভারতে জেগে উঠেছিল স্বতঃপ্রোণদিত জনজাগরণ। লক্ষ লক্ষ মানুষ পথে নেমেছিলেন, রাত জেগে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন, অথচ তা অচিরেই থিতিয়ে পড়ল। কার্যত এক গন অভ্যুত্থান নাম নিল ডাক্তারদের আন্দোলনে। পৃথিবীটা যেন ছোটো হতে হতে ডাক্তারদের টেন্টে এসে হারালো। অভয়ার বাবা মা তাঁদের নির্যাতিতা কন্যার বিচার চেয়ে দোরে দোরে ঘুরেছেন, কি পেলেন এই একবছরে ? কেন এই হাল ? কি করে এই জঘণ্যতম কাণ্ড ঘিরে এত বিভ্রান্তি, কেন ব্যর্থ হল বিরোধীরা ? কেন হতাশ তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ?
এক বছর পর অঢেল প্রশ্নের ভিড়ে হারিয়ে গেছে মূল অপরাধী সাজাও। কারণ, এখনও মানুষের মন থেকে এই সংশয় যায়নি যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এত বড় একটি অপরাধ একজনের পক্ষে কি সম্ভব ? আজ এক বছরে পর সবকিছুকে বাদ দিয়ে একটাই প্রশ্ন, বাংলার রাজনীতিতে কি বিরোধীদের কোনো গঠনমূলক ভূমিকা নেই ? রহস্যটা কি ? দিল্লি গিয়ে সিবিআই ডিরেক্টরের হাতে একটি প্ল্যাকার্ড তুলে দিয়েছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। যাতে লেখা ছিল — ‘মেরুদণ্ড দেখান, না হয় পদত্যাগ করুন।’ তাতে ডিরেক্টর নাকি নিজেই বলেছেন মামলা ছেড়ে দেবেন। আরজিকর দেখিয়ে দিল বাংলায় না আছে বিরোধী শক্তি, না আছে প্রশাসনিক সক্ষমতা। তাই বিভ্রান্তির আবর্তে শতাব্দীর সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধ, বাঙালির শ্লাঘাকেই আঘাত করে।
