ওঙ্কার ডেস্ক: শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে পর্যটক টানতে অভিনব উদ্যোগ নিল কর্তৃপক্ষ। তিনটি ঐতিহাসিক পাইলট লঞ্চ—অর্থাৎ পিএল রূপসা, পিএল হুগলি ও পিএল গোপালকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। ভাসমান পর্যটন, সাংস্কৃতিক ও বিনোদনের কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য এই উদ্যোগ।
১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে নির্মিত এই লঞ্চগুলি মূলত জাহাজকে নদীপথে গাইড করার জন্য ব্যবহার করা হত। বর্তমানে এই জলযানগুলি পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি আধুনিকতার মিশেল ঘটানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ চায়, এই লঞ্চগুলি যেন ভাসমান ক্যাফে, ভাসমান জাদুঘর, সাংস্কৃতিক মঞ্চ, বিবাহ-মঞ্চ কিংবা ঐতিহ্যবাহী ক্রুজের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
পিএল রূপসা ও পিএল হুগলি—১৯৯৭ সালে তৈরি হয়। মূলত ইস্পাত দিয়ে এগুলি তৈরি, দৈর্ঘ্য ৩২.৯০ মিটার, প্রস্থ ৬.০০ মিটার ও গভীরতা ৩.৮০ মিটার। প্রতিটির গ্রস রেজিস্টার্ড টনেজ ১০৫ টন এবং ১,০০০ থেকে ২,০০০ বর্গফুট পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য জায়গা রয়েছে। প্রত্যেকটিতে ৫০ থেকে ১০০ জন অতিথি বসতে পারেন। পাশাপাশি পিএল গোপাল ১৯৯৪ সালে তৈরি। এটি ফাইবারগ্লাস রিইনফোর্সড প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি, দৈর্ঘ্য ১৯.০০ মিটার এবং এতে ৮০০ থেকে ১,০০০ বর্গফুট জায়গা ব্যবহারযোগ্য। এটিতে ৩০ থেকে ৫০ জন অতিথি বসতে পারবেন।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য পর্যটন সংস্থা, নদীকেন্দ্রিক ভ্রমণ সংস্থা, আতিথেয়তা ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, রেস্তোরাঁ বা ক্যাফে চেইন, ঐতিহ্য সংরক্ষণকারী সংস্থাগুলিকে এতে সাম করা। থিমভিত্তিক রেস্তোরাঁ, ডাইনিং অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এমন এক কেন্দ্র গড়ে তোলা, যা বাংলার ঐতিহ্য ও আধুনিক সংস্কৃতিকে সম্মান জানাবে।
