স্পোর্টস ডেস্ক : রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে এবার ফাইনালে রেকর্ড গড়ার অপেক্ষা ভারত। ফের বিশ্বকাপের ফাইনালে সূর্য কুমাররা। সঞ্জু স্যামসনের সহজ ক্যাচ ফেলে ভারতের দিকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিলেন স্বয়ং ইংরেজ অধিনায়ক। এরপর শেষ ওভার পর্যন্ত টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে গড়াল ভারত বনাম ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ম্যাচ। রবিবার আমদাবাদে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে নিউজ়িল্যান্ড। জিতলেই ইতিহাস। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে টানা দু’বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ এখন ভারতের সামনে।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সূর্যকুমার যাদবরা নজরকাড়া ম্যাচ খেললো। তবে এই জয়ে ভারতের পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডেরই অবদান। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের দুটো ভুল। প্রথমে টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত এবং দ্বিতীয়ত সঞ্জু স্যামসনের সহজ ক্যাচ ফেলা। যার চরম খেসারত দিতে হল ইংরেজদের। এই ম্যাচ হারতে হল তাঁদের।
এবারও হিরো সঞ্জু স্যামসন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা সঞ্জু এবারও ভারতের কাণ্ডারী। ৮ টি ৪, ৭ টি ৬ মিলিয়ে এদিন ওপেন করতে নেমে তিনি ৪২ বলে ৮৯ রান করেন। শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর আধিপত্য বজায় রেখেছেন তিনি। তবে এবারও ব্যর্থ অভিষেক শর্মা। সঞ্জুকে সহায়তা করেছেন মারমুখী ঈশান কিষাণ। চার নম্বরে নেমে শিবম দুবে ২৫ বলে ৪৩ রান করেন। সূর্যকুমারও সুবিধে করতে পারেননি। ৬ বলে ১১ রান করে আউট হন তিনি। যদিও এরপরও ভারতের রান তোলার গতি থমকে যায়নি। হার্দিক পাণ্ডেয়া ১২ বলে ২৭ এবং তিলক বর্মা ৭ বলে ২১ রান করে শেষমুহূর্তে বাড়তি রান এনে দেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৫৩ রান।
২৫৪ রান তাড়া করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে যাওয়ার জন্য প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক হতে হত ইংল্যান্ডকে। ওভার প্রতি আস্কিং রান ১৩। তবু ইংল্যান্ডে যা ব্যাটিং শক্তি তাতে অসম্ভব ছিল না। তবু সেই সম্ভাবনাকে ধুলায় মিশিয়ে দেন জসপ্রীত বুমরাহ, অর্শদীপ সিংহদের মতো ভারতীয় বোলাররা। যদিও ফিল সল্ট-জস বাটলার জুটিকে ইনিংসের শুরুতে বেশ আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু তা জমে ওঠার আগেই সল্টকে প্রথম বলেই মাত্র ৫ রানে তুলে নেন হার্দিক। ফের বুমরাহের প্রথম বলে আউট হলেন ব্রুক (৬ বলে ৭)। প্রায় ২০ মিটার দৌড়ে তাঁর ক্যাচ ধরেন অক্ষর পটেল। প্রথম ওভার বল করতে এসে বাটলারকে (১৭ বলে ২৫) বোল্ড করেন বরুণ চক্রবর্তী, এরপর চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। যদিও প্রথম তিন বলেই বেথেলকে ওভার বাউন্ডারি দেন বরুণ। টন ব্যান্টনও মারকুটে মেজাজে শুরু করেন, কিন্তু অক্ষরের বলে তিনি (৫ বলে ১৭) হাউট হন তিনি। এরপর ইংল্যান্ডের ভরসা ছিল বেথেল-জ্যাকস জুটির উপর। কিন্তু তাঁদের ৩৯ বলে ৭৭ রানের জুটি ভাঙেন অর্শদীপ। জ্যাকস ৪টি চার এবং ২টি ছয়ের সাহায্যে ২০ বলে ৩৫ রান করে আউট হন। ১৭২ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ইংল্যান্ডের জয়ের আশা ম্লান হয়ে যায়। তার পরও ঘুরে দাঁড়ানো চেষ্টা করেন বেথেল। ১৯তম ওভারে কারেনকে (১৪ বলে ১৮) আউট করে ভারতকে সুবিধা করে দেন হার্দিক। শেষ ওভারের প্রথম বলে বেথেল রান আউট হয়ে যাওয়ায় ইংল্যান্ডের আর আশা রইল না। ৮টি চার এবং ৭টি ছয়ের সাহায্যে ৪৮ বলে ১০৫ রান করেন বেথেল। শেষ পর্যন্ত ক্রিজে ছিলেন আর্চার (১৯) এবং ওভারটন (২)।
এই ভারতীয় দলে ক্রমেই প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছেন সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষাণ ও শিবম দুবে। তাঁদের আক্রমণাত্মক খেলার যদি ফাইনালে বজায় থাকে তাহলে ইতিহাস আর দূরে নেই। এখন অপেক্ষা আগামী রবিবার পর্যন্ত।
