ওঙ্কার ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব আবারও নিজের ঝুলিতে ভরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পর পর দুটি দেশের যুদ্ধ থামিয়ে আপাতত নিজের ঢাক নিজে পেটাতে ব্যস্ত তিনি। আবার নিজেকে শান্তির রাষ্ট্রদূত বলে আখ্যায়িত করছেন খোদ ট্রাম্প। এর পরবর্তী পদক্ষেপ কী? মুনির এবং নেতিনিয়াহুর কথা মত কি এবার সত্যি নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবিদার হতে পারে্ন ট্রাম্প।
গত কয়েক বছরে ভূরাজনীতি এমন এক নাট্যগবেষণার মঞ্চে দাঁড়িয়েছে, যেখানে দেশ, বানিজ্য, গণতন্ত্রের পেছনে চলে ‘চিন-আমেরিকা’নাটক। কম্বোডিয়া সম্প্রতি চিনের দিকে সোজাসুজি ঝুঁকে পড়েছে। ট্রাম্পের সেই পুরনো ‘চিন-বিরোধী’মনোভাব অক্ষুণ্ণ। ফলে ট্রাম্প যে কম্বোডিয়ার দিকে নজর রাখবেন, তা ছিল একপ্রকার প্রত্যাশিতই। তাই যুদ্ধবিরতির নাম করে আসলে বাণিজ্যিক রাশ টেনে ধরার সুযোগই নিলেন ট্রাম্প, এমনটাই মত কূটনৈতিক মহলের।
অন্যদিকে থাইল্যান্ডের আগের প্রধানমন্ত্রী, শিনাওত্রা ছিলেন যুদ্ধবিরোধী। যুদ্ধের সরঞ্জাম কেনার বিরোধিতা করেছিলেন একসময়। বলেছিলেন ঐ টাকা দেশে হিতে ব্যবহার করা হবে। দেশকে শান্তির পথে রাখতে যুদ্ধাস্ত্রে বিনিয়োগে রাজি ছিলেন না। কিন্তু সমস্যা বাঁধে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে। তিনি চান যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র। দেশের প্রাধান মন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর মন্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চরমে ওঠে। এর মধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পরে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার শীর্ষনেতার একটি কথোপোকথন, যেখানে শিনাওত্রা তৎকালীন কম্বোডিয়া প্রধানমন্ত্রীকে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্মোধন করেন। আর এতেই ফেটে পরে দেশের রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী ইস্তফা দিতেই অ্যাক্টিং প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ফুমতাম। আর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই দেশে শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ।
ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর হুঁশিয়ারির ফলেই দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। যদিও কম্বোডিয়ার সীমান্ত শিবিরের বাসিন্দা মাউন নারা বলছেন, ‘‘ঘোষণার ঘণ্টাখানেক পরেও গোলাগুলি চলছে। এটা কী ধরনের যুদ্ধবিরতি, বুঝতে পারছি না”।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সূত্রে খবর, আসিয়ান সংগঠনের বর্তমান সভাপতি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আলোচনার আসল মধ্যস্থতাকারী। মালয়েশিয়ার রাজধানীর কাছে নিজের বাসভবনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের ডেকে আনা হয়েছে। ফলস্বরূপ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা। কিন্তু সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের। তিনি তো নিজের শান্তির ঢাক পেটাতে মরিয়া।
এর আগে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির কৃতিত্বও নিজেই নিয়েছিলেন ট্রাম্প। দিল্লি তাঁর এই মন্তব্যে সায় না দিলেও তাতে খুব একটা কিছু এসে যায় না। টারিফ আইন, আন্তর্জাতিক কোর্ট, নোবেল শান্তি পুরষ্কারের মনোনয়ান, সব জায়গায় এই যুদ্ধ বিরতির ঢাক পিটিয়ে চলেছেন তিনি। এখন আবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আর একটি নাম, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতি। এবার এটা নিয়ে কতটা রাজনীতি করা সম্ভব, তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগামী দিন গুলোতে বুঝিয়ে দেবেন ঠিকই।
