বিপ্লব দাশ : অপারেশন সিঁদুরের পর হোয়াইট হাউসের প্রথাবহির্ভূত আমন্ত্রিত হয়ে আসিম মুনির প্রমাণ করেছিলেন আমেরিকার কাছে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এবং দুনিয়া দেখেছিল, পাকিস্তানের মতো একটি দেশের সেনা প্রধানের জন্য কী ভাবে হন্তদন্ত হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জি-৭ সম্মেলন ছেড়ে ওয়াশিংটন দৌড়েছিলেন। এতে কার কতটা মর্যাদা গ্যালভেনাইজড হল তা দুনিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়া ভালো। নাহলে দ্বিতীয়বার আমেরিকা সফরে গিয়ে পাক সেনা প্রধান সাহস পান ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হুশিয়ারি দিতে ? আসলে মুনির ভালোভাবেই বুঝে গিয়েছিলে ট্রাম্পের নির্লজ্জ তোষামোদকারীদের প্রতি ঝোঁক। ওই যে আগেরবার ওয়াশিংটনে গিয়ে মুনির ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল প্রাইজের জন্য গলা চড়িয়েছিলেন। ট্রাম্প যে তেল নিয়ে রাজনীতি করছেন তার অনেক বড় ব্যাপারি যে আসিম মুনির সেটাই বুঝতে পারেননি ট্রাম্প।
পাকিস্তান ভালো করেই জানে, এ ধরণের আওয়াজ এক্কেবারেই পাড়ার বচসার মতো। অন্তত অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানের জানা উচিত কত ধানে কত চাল। তাই মুনির পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে হুমকি দিলেও চোখটা গিয়ে পড়েছে ট্রাম্পের দিকে। ট্রাম্প কী জানেন না যে পাকিস্তানের জেনারেলর পারমাণবিক অস্ত্রের যে বড়াই করছে তা কিন্তু গোপনে তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৬০ সালের প্রেসলার সংশোধনীর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যা ক্রোধের কারণ হয়েছিল। যার ফলে বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানকে সমস্ত সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছিল আমেরিকা।
কিন্তু সবার উপরে যে ওটাই- নির্লজ্জ তোষামোদপ্রিয়তা। পাকিস্তান এটা অনেক দেশের চেয়ে আগেই বুঝিছিল। তাই দ্বিতীয় মেয়াদে POTUS-এর প্রশংসায় অতিরঞ্জিত করতে সময় নষ্ট করেনি। যেভাবে, মে মাসে যুদ্ধবিরতির জন্য ভারত ট্রাম্পকে কোনও কৃতিত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানালেও, পাকিস্তান কৃতজ্ঞতার ফুলঝুরি ঝরিয়েছিল।
সবাই জানে ১৯৫০ সাল থেকে পাকিস্তান এই অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তাহীনতার সুযোগ নিয়ে আসছে। সিয়াটো এবং সেন্টোর মতো জোটের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তা পেয়ে পাকিস্তান তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের বিরুদ্ধে একই পদক্ষেপ নেয়। আফগানিস্তানে সোভিয়েতদের বিরুদ্ধে সহযোগিতা করার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফের পাকিস্তানের বিশ্বাসঘাতকতার স্বাদ ভোগ করে যখন সোভিয়েতরা মার্কিন কর্মী এবং পরিকাঠামোতে আক্রমণকারী জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলিকে কার্যত পুষে রেখেছিল। এরপর ভৌগলিক কারণে আল-কায়েদার দৌরাত্ম ধ্বংস করতে তাদের প্রয়োজন পড়ল পাকিস্তানকে। সেই সুযোগে পাকিস্তান তাদের অস্ত্র ভাণ্ডার কিছুটা বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পেল। তখনই অবশ্য ওয়াশিংটনের গোয়েন্দারা এবং কূটনীতিকরা পাকিস্তানের অভ্যাসগত বিশ্বাসঘাতকতার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছিল। যে কারণেই ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেনকে অ্যাবোটাবাদে পাকড়াও করার পরিকল্পনা ঘুনাক্ষরেও জানতে দেয়নি পা
কিস্তানকে। ফলে বাস্তবিক অর্থে পাকিস্তানকে বিশ্বাস না করেও আমেরিকার এই পাকপ্রীতি কোন গূঢ় কারণে তা নিশ্চয়ই অস্পষ্ট নয় আন্তর্জাতিক মহলে। এটাই আমেরিকার ‘টিপিক্যাল ডাবল গেম’। এই ডাবল গেমটা অবশেষে কী বোধগম্য হল মোদীর ! তাই কি পশ্চিম থেকে মুখ ফেরালেন তিনি ?
