ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এই সংঘাত অনির্দিষ্টকাল ধরে চলবে না বলেই তাঁর বিশ্বাস। পরিস্থিতি বিচার করে তাঁর ধারণা, চলমান সামরিক অভিযান খুব বেশি হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতিনয়াহু জানিয়েছন যে শান্তির জন্য তারা লড়ছেন তা পেয়ে গেলেই অতি সত্ত্বর যুদ্ধ থেমে যাবে।
সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনা মাফিক সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং সেই পরিকল্পনার লক্ষ্য নির্দিষ্ট। তাঁর দাবি, ইরানের সামরিক ক্ষমতা দুর্বল করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্য পূরণ হলে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কোনও প্রয়োজন থাকবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, ইরান ভৌগোলিক দিক থেকে বড় দেশ এবং তাদের সামরিক পরিকাঠামোও শক্তিশালী। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা কৌশলগতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। এই কারণে সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে টানার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলেই মনে করছেন তিনি।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতিনয়াহু জানিয়েছেন, “কিছু আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা দাবী করছেন এটি একটি চিরস্থায়ী যুদ্ধ হয়ে চলেছে। কিন্তু আসলে আমরা চায় যুদ্ধ অতিসত্ত্বর শেষ করতে”। তাঁর কথায় এই যুদ্ধ এক বছরও স্থায়ী হবে না। তিনি আরও জানান, তারা একযোগে শান্তির জন্য লড়ছেন এবং তা অর্জন করবেন।
একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। ইরানের নতুন নেতৃত্ব যদি আলোচনার পথে এগিয়ে আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও সেই প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তাঁর মতে, এই আলোচনা অনেক আগেই শুরু হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে আগে উদ্যোগ নেওয়া হলে হয়তো পরিস্থিতি এতটা জটিল হয়ে উঠত না।
এদিকে ইরানে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা জবাব দেওয়ার কথাও জানিয়েছে তেহরান। ফলে দুই পক্ষের উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ কতদিন চলবে তা নির্ভর করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপরইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়া, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সিদ্ধান্ত। যদিও ট্রাম্প আশাবাদী যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না, তবুও বাস্তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাপ্রবাহের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। কারণ এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
