বিপ্লব দাশ : দীর্ঘ চাপান উতোরের পর পশ্চিমবঙ্গে SIR হচ্ছে। বিএলও নিয়োগ নিয়ে কিছু অসুবিধা থাকলেও রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রারম্ভিক প্রক্রিয়া প্রায় সেরে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। এই অবস্থায় শাসক দলের গলাও আর আগের মতো উচ্চস্বরে নেই। যদিও তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন বিজেপির লাইনে হাঁটছে। বিজেপির তরফেও SIR ফলপ্রসু করতে বুথ লেভেলে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ইতিমধ্যে দলের নেতা কর্মীদের কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সুখে থাকতে হলে SIR সফল করতে হবে। ভোটার তালিকা সংশোধনে অন্তত ৮০ শতংশ সাফল্য না পেলে তৃণমূলকে সরানো পরিকল্পনা করা যাবে না।
শাসক ও বিরোধী দলের অভিব্যক্তি বলে দিচ্ছে ২৬শের নির্বাচনে সব ইস্যুকে ছাপিয়ে গেছে সংশোধিত ভোটার তালিকা। ভোট গ্রহণের আগেই যেন ফলাফল বলে দিচ্ছে SIR। সেই অর্থে বিহারের পথ ধরে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে আসছে দেশের ভোট ইতিহাসে এক নতুন যুগ। যেখানে না আছে উন্নয়ন বা প্রতিশ্রুতি, না আছে দুর্নীতি বা অপশাসন, না আছের সাফল্য বা ব্যর্থতা। ইস্যু একটাই তা হল ভোটার তালিকা। আর একে ঘিরেই খুব শিগগির সরগরম হতে চলেছে রাজ্য। তারই আভাস এখন রাজ্য জুড়ে, একটা থমথমে তাপ ছেয়ে আছে সর্বত্র। বিশেষ করে সীমান্ত জেলাগুলিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই ভর করেছে SIR-ভূত।
ভোটার তালিকা নিয়ে এমন আতঙ্ক কখনো দেখা যায়নি আগে। যেহেতু এটা শুধু ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা না থাকার বিষয় নয়। এরসঙ্গে জড়িয়ে আছে নাগরিকত্ব, তাই কী ভাবে নিজেদের বৈধ ভোটার হিসেবে প্রমাণ করবেন, তা নিয়ে সবার মধ্যে একটা অনিশ্চয়তা যেমন কাজ করছে, তেমনি প্রামাণ্য বিষয় নিয়েও বিশেষ তোড়জোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই অবস্থায় রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্রটা কেমন দাঁড়ায় সেদিকেই সবার নজর। তৃণমূল নেতাদের কেউ কেউ বলছেন কোনো ভাবে বৈধ ভোটার বাদ পড়লে ছেড়ে দেওয়া হবে না। আবার সংখ্যালঘুদের উপর কোপ মারতেই SIR নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে বিজেপি, এমন অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এই দুয়ের মাঝখানে কী তৈরি হচ্ছে ২৬শের রণক্ষেত্র, এ নিয়েও আশঙ্কায় রয়েছে বাংলার মানুষ। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে বাংলার আগামী রাজনৈতিক চিত্র। যাই হোক না কেন একটা টালমাটাল যে হতে চলেছে তার ইংগিত উঠে আসছে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি থেকে।
