ওঙ্কার ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চেয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারির পর যেসব পুলিশ আধিকারিকের বদলির নির্দেশ জারি হয়েছে এবং অবসর গ্রহণের পর যেসব পুলিশ আধিকারিককে পুনরায় নিয়োগ করা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে বলা হয়েছে রাজ্য প্রশাসনকে।
জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে রাজ্যের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইন) এবং নির্বাচনের জন্য মনোনীত পুলিশ নোডাল অফিসারের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির পর যেসব পুলিশ আধিকারিকের বদলির নির্দেশ জারি হয়েছে, তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে। তবে যেসব বদলির ক্ষেত্রে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা যুক্তিগত অসামঞ্জস্যতার অভিযোগ তুলে বিচারাধীন প্রক্রিয়া চলছে, সেসব ঘটনা এই তালিকার বাইরে রাখা যেতে পারে।
এর পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও রাজ্যের কাছে তথ্য চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। অবসর গ্রহণের পর যেসব পুলিশ আধিকারিককে আবার চাকরিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বা পুনর্নিয়োগ করা হয়েছে, তাদের নাম ও পদবি-সহ সমস্ত বিস্তারিত তথ্যও কমিশনের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।
শুধু প্রশাসনিক বদলি বা পুনর্নিয়োগ নয়, নির্বাচনকে ঘিরে অতীতের সহিংসতার ঘটনাও কমিশনের নজরে রয়েছে। সেই কারণেই আরেকটি পৃথক বার্তায় নির্বাচন কমিশন রাজ্য সরকারের কাছে এমন সব পুলিশ আধিকারিকদের তথ্য চেয়েছে, যাদের অধিক্ষেত্রে পূর্ববর্তী নির্বাচনের সময় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল।
বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় প্রাক-ভোট, ভোটের দিন এবং ভোট-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা যেসব থানার এলাকায় ঘটেছিল, সেইসব এলাকার দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, আগের চিঠিপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে আরও একটি তালিকা দিতে হবে, যেখানে সংশ্লিষ্ট থানার স্তরের পুলিশ আধিকারিকদের নাম থাকবে, যাদের অধিক্ষেত্রে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং অতীতের মতো অভিযোগ না ওঠে, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় বিধানসভা ভোটের সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ভোট হবে বাকি ১৪২টি আসনে। মোট ২৯৪টি আসনের জন্য এই দুই দফায় নির্বাচন সম্পন্ন হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত কয়েকটি বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে সাত থেকে আট দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছিল। কিন্তু এবার মাত্র দুই দফায় নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলেই কম দফায় ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
