ওঙ্কার ডেস্ক: তাঁকে রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী না করায় দলের পদ ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন! শুধু তাই নয়, ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ওই কেন্দ্রে জোড়াফুল শিবিরের পরাজয় নিশ্চিত বলে। কিন্তু দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা ফোন পেয়ে নিজের অবস্থান বদল করলেন খগেশ্বর রায়। বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়িতে দেখা যায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ভিড়।
খগেশ্বর জানান, বুধবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোন করেন। দলের নেত্রী নির্দেশ দেন, রাজগঞ্জে অভিভাবকের মতো থেকে তাঁকে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে কথা বলার পর প্রবীণ নেতা বলেন, ‘দিদি আমাকে ফোন করায় আমি কৃতজ্ঞ। আবেগতাড়িত হয়ে পদ ছাড়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু নেত্রী যা দায়িত্ব দেবেন, সেটাই করব। আমি তৃ়ণমূলেই থাকছি।’
উল্লেখ্য, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার রাজ্যের ২৯১ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সেই তালিকায় নাম থাকায় দলীয় পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজগঞ্জের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়। পাশাপাশি মঙ্গলবার খগেশ্বর ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছেন, রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মণ পরাজিত হবে! ২০১৮ সালে এশিয়াডে সোনা জয় করেছেন স্বপ্না। বাংলার নাম উজ্জ্বলকারী এই অ্যাথলিট গত ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। রাজ্যের দুই মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেন তিনি। বর্তমানে রেলে চাকরি করেন স্বপ্না। চলতি বছর জানুয়ারি মাসেই শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে গিয়ে স্বপ্নার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু স্বপ্নাকে যে বিধায়ক হওয়ার জন্য দল টিকিট দেবে তা কল্পনাও করতে পারেননি খগেশ্বর। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন পেয়ে তাঁর অভিমান অতীত। এখন তৃণমূলকে জেতানোর জন্য তিনি কাজ করবেন বলে জানালেন।
