ওঙ্কার ডেস্ক: নুহ জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে গোপনে বিস্ফোরক তৈরির জন্য কাঁচামাল মজুত করার অভিযোগ ঘিরে তদন্তকারী সংস্থাগুলির মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সূত্রের দাবি, প্রায় এক হাজার কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং ছাব্বিশ কুইন্টাল এনপিকে সার একত্র করা হয়েছিল কৃষিকাজ বা খনির কাজের নাম করে। বাইরে থেকে সাধারণ সার কেনাবেচার মতো দেখালেও তদন্তকারীদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য ছিল শক্তিশালী বিস্ফোরক তৈরি করা।
তদন্ত সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই গোটা কার্যক্রম চালানোর জন্য প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকার তহবিল জোগাড় করা হয়েছিল। সেই টাকায় একাধিক অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় রাইফেল এবং গোলাবারুদ কেনা হয় বলে সন্দেহ। শ্রীনগর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র আনার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে তদন্তকারীদের। নুহ এলাকায় বসেই বিস্ফোরকের প্রস্তুতি এবং অস্ত্র সংগ্রহ দুই দিকেই দাগ পড়ছে একই তদন্তের পরিধিতে।
সম্প্রতি দিল্লির লালকেল্লা এলাকায় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে যে তদন্ত শুরু হয়েছে, সেই সূত্র ধরেই উঠে এসেছে ডক্টর উমর-উন-নবি এবং মুজাম্মিল আহমেদের নাম। এই দু’জনের কার্যকলাপ, তাঁদের যোগাযোগের তালিকা এবং আর্থিক লেনদেন এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিস্ফোরণের আগের কয়েক সপ্তাহে তাঁদের চলাফেরা এবং বিভিন্ন জায়গায় সার ও রাসায়নিক সংগ্রহের নিয়মিততা তদন্তকারীদের মনে সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
গোটা ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা, নজরদারির ফাঁকফোকর এবং বিস্ফোরক তৈরি করতে ব্যবহৃত রাসায়নিক কেনা-বেচার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে এত পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং এনপিকে সার বিনা নজরে মজুত করা সম্ভব হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে কারা এই চক্রকে লজিস্টিক সাহায্য করছিল এবং কারা এলাকাবিশেষে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছিল, সেই দিকেও তদন্তকারীরা নজর রাখছেন।
তদন্ত এগোতেই সামনে আসছে নতুন তথ্য, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে বিস্ফোরক তৈরির চেষ্টায় ছিল একটি সংগঠিত দল। তাদের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য লক্ষ্য কোথায় ছিল, তা নিয়েও চলছে ব্যাপক অনুসন্ধান। বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে অস্ত্র কেনা সব মিলিয়ে তদন্তে উঠে আসা তথ্য নতুন ধাঁধার জন্ম দিচ্ছে, যার প্রতিটি টুকরো মিললে গোটা চক্রের চেহারা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি।
এখন তদন্তের মূল ফোকাস এই বিপুল রাসায়নিক মজুতের উৎস, তা পরিবহনের পথ, অর্থের যোগানদাতা এবং বিস্ফোরক তৈরির সম্ভাব্য পরিকল্পনা। ঘটনায় যুক্ত প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, আর প্রতিটি সূত্রকে খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে বিস্ফোরণের পিছনে লুকিয়ে থাকা পুরো নেটওয়ার্কটি সামনে আনা যায়
