ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানে সামরিক ঘাঁটি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের তথ্য ইজরায়েলের কাছে পাচারের অভিযোগে অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছনোর পর থেকেই দেশের অভ্যন্তরে গুপ্তচরবৃত্তির আশঙ্কায় কড়া নজরদারি শুরু করেছিল ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। সেই নজরদারির জেরেই সন্দেহভাজন একটি চক্রের খোঁজ মেলে এবং অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ইরানের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের দাবি, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি যোগাযোগ রক্ষা করছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তারা ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং কৌশলগত স্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাঠাচ্ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে হামলার পরিকল্পনা করা হতে পারত বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক দফায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে যোগাযোগের নথি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর। সেই সব তথ্য খতিয়ে দেখেই গোটা নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
ইরানের প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকেই দেশের অভ্যন্তরে নাশকতা বা তথ্য পাচারের সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে। সেই কারণেই সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, ধৃতরা বিদেশি শক্তির সঙ্গে মিলে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করার চেষ্টা করছিল।
এই ঘটনার পর গোটা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর আশপাশে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসন জানিয়েছে, যারা বিদেশি শক্তির হয়ে কাজ করে দেশের নিরাপত্তা বিপন্ন করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
