বিপ্লব দাশ : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যের সর্বস্তরে বাংলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া নিয়ে যখন আন্দোলন শুরু হয়, তখন কিছু সংখ্যক বুদ্ধিজীবী ছাড়া এ নিয়ে উচ্চাবাচ্চ করতে দেখা যায়নি। কলকাতার ৩০০ বছর পূর্তিতে শুরু হওয়া সেই আন্দোলনের সুফল আমরা শুধু পেয়েছি কলকাতার নাম করণে। ক্যালকাটা থেকে সরকারি ভাবে কলকাতা। তবে এতে বাংলার অস্মিতা কতটা পরিপুষ্ট হয়েছে তা বলা মুশকিল। বলতে গেলে দেশের অন্যান্য শহরেও এই নাম পরিবর্তন দেখা গেছে। যেমন বম্বে থেকে মুম্বই, ব্যাঙ্গালোর থেকে ব্যাঙ্গালুরু, গৌহাটি থেকে গুয়াহাটি ইত্যাদি। কিন্তু সেই আন্দোলনের বাকি দাবিদাওয়া স্বীকৃতি পেলেও কর্ণপাত করেনি সরকার, সাধারণ মানুষও। সরকারি কাজে, সাইন বোর্ডে, পঠনপাঠনে বাংলা ঠাঁই পায়নি। সেদিকে কেউ নজরও দেয়নি।
এবার ২৬শের ভোটের আগে সেই রব ফিরে এল রাজনীতি জড়িয়ে। বাংলাকে বাধ্যতামূলক করার জন্য কলকাতা পুরসভা ফতোয়া জারি করতে চলেছে। স্বাধীন ভারতে ২৭ জুলাই বাংলা ভাষা দিবস হিসেবে উঠে আসছে। আর এসবের মূল কারণ যে বাংলা ভাষাভাষীদের নিয়ে নব্য রাজনীতি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেকটা নতুন মোড়কে পুরোনো পণ্য। কিন্তু এর মধ্যে আসলে যে আছে সামাজিক মেরুকরণের ভয়ংকর বীজ সেদিকে কী কেউ নজর দিচ্ছেন ! তারচেয়েও আরও বড় রহস্য লুকিয়ে আছে এই বাংলা ভাষার প্রতি রাজনীতিকদের অতীব অনুরাগের মধ্যে। ফলে বাংলার অস্মিতাকে সামনে রেখে যে রাজনৈতিক আবহ এ রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে তা কী আদৌ বাংলা ভাষা ও বাংলা সংস্কৃতির কোনো কাজে লাগবে, এমনটা মনে করা খুব বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। এই আন্দোলনের আয়ুরেখা বড়জোর ২৬শের ভোট পর্যন্ত বলে মনে করছে অভিজ্ঞমহল। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে ফের একটা তুল্যমান গড়ে উঠছে তা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দূরদর্শীতা। সামাজিক বিভেদকে জাতির আবেগ ও সংবিধান দিয়ে প্রতিরোধ করে তার ভিতর থেকে সমর্থনের পাল্লা ভারী কী ভাবে করতে হয় তা যদি বিরোধীরা বুঝতেন, তাহলে বাংলার রাজনৈতিক উন্মেষ নজির সৃষ্টি করতে পারত।
