নিজস্ব সংবাদদাতা,হলদিয়া: চতুর্থীর সকালে হলদিয়ায় বড় শিল্প-ঘোষণা। প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি দেশের বৃহত্তম ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কারখানার উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটি আত্মনির্ভর ভারতের অন্যতম প্রতীক। সারা পশ্চিমবঙ্গকেও এবার ভাতানির্ভরতা কাটিয়ে আত্মনির্ভর হতে হবে।
বুধবার সকাল ১১টায় হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের নতুন প্ল্যান্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, অর্থমন্ত্রী স্বপন মজুমদার, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদ। ছিলেন এইচপিএলের চেয়ারম্যান পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর নবনীত নারায়ণ। সহযোগী সংস্থা অ্যাডিপার্মার বিনিয়োগে তৈরি এই প্ল্যান্টে বছরে ৩.৪৫ লক্ষ টন ফেনল এবং ২.১৫ লক্ষ টন অ্যাসিটোন উৎপাদন হবে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় নানা প্রতিকূলতার মধ্যে সংস্থার ঘুরে দাঁড়ানোর কথা তুলে ধরেন। তাঁর সূত্র ধরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্গাপুজোর আগে এটা এক ঐতিহাসিক দিন। আগে ফেনল, অ্যাসিটোন বিদেশ থেকে আনতে হত। আজ থেকে তার আমদানি শূন্য হয়ে গেল। এটাই প্রধানমন্ত্রীর আত্মনির্ভর ভারত।” তিনি আরও বলেন, “এই প্ল্যান্টের মাধ্যমে আমরা আত্মনির্ভর হলাম। গোটা পশ্চিমবঙ্গকে আত্মনির্ভর হতে হবে। রাজ্য বড্ড ভাতানির্ভর হয়ে পড়েছে। এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসাই আজকের শপথ হওয়া উচিত।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই কারখানায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৪০০ জনের কর্মসংস্থান হবে এবং ভবিষ্যতে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটির সূচনা হয়েছিল ২০১৪ সালে, প্রায় দু’দশক পর হলদিয়ায় এত বড় বিনিয়োগ বলে দাবি রাজ্যের।
স্থানীয় কর্মসংস্থানের উপর জোর দিয়ে শুভেন্দু বলেন, সারা দেশের যোগ্য মানুষই রাজ্যে কাজ করবেন, সংকীর্ণতার জায়গা নেই। তবে শিল্পের প্রয়োজনে দক্ষ স্থানীয় কর্মী নিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ জন্য উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে স্থানীয় আইটিআই পরিদর্শন করে পরিকাঠামো বৃদ্ধির নির্দেশ দেন তিনি।
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরও কয়েকটি বড় ঘোষণা করেন। হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে ৯৮ একর জমিতে একটি আন্তর্জাতিক মানের নরম পানীয় সংস্থার ইউনিট এবং ৫০ একর জমিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থার কারখানা তৈরি হবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ শয্যার ট্রমা কেয়ার ও বার্ন ইউনিট ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে তৈরি হবে বলেও জানান। পাশাপাশি পূর্ণেন্দুকে রাজ্যে একটি ডেটা সেন্টার তৈরির আবেদন জানিয়ে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।