আসানসোল, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্য সরকারের একাধিক ক্ষেত্রে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানালেন, সীমিত এমএলএ ফান্ড দিয়ে একটি বড়ো বিধানসভা এলাকার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও তিনি নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এলাকার উন্নয়নে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন।
একান্ত সাক্ষাৎকারে বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “প্রতি বছর এমএলএ ফান্ডে মাত্র ৭৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। এই অর্থ দিয়ে গোটা আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করা বাস্তবে সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “পাঁচ বছরে আরও অনেক কাজ করা যেত। ইচ্ছে ছিল, পরিকল্পনাও ছিল, কিন্তু রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে বহু ক্ষেত্রেই সেই উন্নয়ন বাস্তবায়িত করা যায়নি।”
অগ্নিমিত্রার অভিযোগ, বিগত সাড়ে চার বছর ধরে রাজ্য সরকার নানা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করে তাঁর উন্নয়নমূলক কাজের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। তবুও তিনি থেমে থাকেননি। বিধায়কের দাবি, এমএলএ ফান্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় সোলার লাইট বসানো হয়েছে, ছট ঘাট সংস্কার করা হয়েছে, ক্লাব ও জনবহুল এলাকায় সেড নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেডগুলির ফলে স্থানীয় দুস্থ পড়ুয়ারা পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে এবং পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও চালানো সম্ভব হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, আসানসোল ও আদ্রা রেল ডিভিশনের যাত্রীদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে রেলমন্ত্রী ও রেল দপ্তরের কাছে একাধিকবার আবেদন জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। যাত্রী পরিষেবা উন্নত করার জন্য প্ল্যাটফর্ম, ট্রেন স্টপেজ ও পরিকাঠামোগত সমস্যার বিষয়েও কেন্দ্রের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।
তবে অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে গ্রামীণ ও বস্তি এলাকার মহিলাদের দুরবস্থার কথা। তিনি বলেন, “আজও অনেক এলাকায় মহিলারা ঘরের বাইরে শৌচকর্ম করতে বাধ্য হন। কেন্দ্র সরকার শৌচালয় নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করতে প্রস্তুত থাকলেও রাজ্য সরকার জমি দিতে রাজি নয়। ফলে কাজ আটকে যাচ্ছে।”
এছাড়াও বিধায়কের অভিযোগ, আয়ুষ্মান ভারত-সহ কেন্দ্র সরকারের একাধিক জনমুখী প্রকল্প রাজ্যে কার্যকর করতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিচ্ছে বর্তমান রাজ্য সরকার। এর ফলে সাধারণ মানুষ তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অগ্নিমিত্রা পালের এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য কমিটির সদস্য ও আসানসোল পৌর নিগমের কাউন্সিলর অশোক রুদ্র। তাঁর কটাক্ষ, “সামনে ভোট আসছে বলেই এইসব অজুহাত। গত সাড়ে চার বছরে আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ককে এলাকায় তেমনভাবে দেখা যায়নি। এখন ভোটের দিন এগিয়ে আসতেই নানা গিমিক দেখিয়ে আবার টিকিট পাওয়ার চেষ্টা চলছে।”
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আসানসোল দক্ষিণে বিজেপি ও তৃণমূলের রাজনৈতিক তরজা যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। উন্নয়ন বনাম অসহযোগিতার এই
লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায় কোন দিকে যাবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
