ওঙ্কার ডেস্ক: মহাকাশ যাত্রার ইতিহাস বলতেই প্রথমেই মনে আসে আমেরিকান নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং-এর নাম। তিনিই প্রথম চাঁদে পা রাখা মানুষ। তবে ন্যাশনাল স্পেস ডে উপলক্ষে হিমাচলের উনা-য় প্রধানমন্ত্রী শ্রীর স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রাক্তন সদস্য তথা বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর এমন মন্তব্য করলেন, যা মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন “মহাকাশে প্রথম ভ্রমণকারী কে ছিলেন?” প্রত্যুত্তরে উপস্থিত সকলে একসঙ্গে উত্তর দেন “নীল আর্মস্ট্রং।” কিন্তু অনুরাগ ঠাকুর মুচকি হেসে পাল্টা মন্তব্য করেন “আমার তো মনে হয় হনুমানজি ছিলেন।”
এরপরই তিনি নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, “আমরা আজও নিজেদের সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখি, যা ব্রিটিশরা আমাদের শিখিয়ে গিয়েছে। যতক্ষণ না আমরা আমাদের হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য, জ্ঞান ও সংস্কৃতিকে জানব, ততক্ষণ আমরা নিজেদের প্রকৃত সত্তা উপলব্ধি করতে পারব না। তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরে ভেবে নিজেদের দেশ, সংস্কৃতি আর প্রাচীন জ্ঞানভাণ্ডারের দিকে তাকানো দরকার। সেখানেই অনেক কিছু আবিষ্কার করা যাবে।”
ঠাকুরের এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬১ সালে প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ করেন, সোভিয়েত নভোচারী ইউরি গ্যাগারিন। ১৯৬৯ সালে চাঁদে প্রথম পদচিহ্ন রাখেন মার্কিন নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং। ভারতের পক্ষ থেকে প্রথম মহাকাশযাত্রী ছিলেন উইং কমান্ডার রাকেশ শর্মা, প্রায় চল্লিশ বছর আগে। চলতি বছরেই গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্ল মহাকাশযাত্রায় দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে নাম লেখান।
এদিকে শনিবারই রাজধানী দিল্লিতে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) উন্মোচন করেছে ‘ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন’ (BAS)-এর মডেল। ইসরো জানিয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের প্রথম মডিউল উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। আর ২০৩৫ সালের মধ্যে পুরো স্টেশন কার্যকরী হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি মানব মহাকাশযাত্রার প্রযুক্তি, মাইক্রোগ্র্যাভিটি গবেষণা ও নানা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই স্টেশন হবে ভারতের নিজস্ব এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
